নিউজ ডেস্ক : উত্তর কলকাতার চোরবাগান এলাকায় এক আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৯ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজে নামে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ কমিশনার, জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম), স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং শিল্পমন্ত্রীসহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি মেডিক্যাল কলেজে যান এবং সারারাত সেখানে উপস্থিত থেকে আহতদের চিকিৎসার তদারকি করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনে নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালেও স্থানান্তরের কড়া নির্দেশ দেন তিনি।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ আর্থিক অনুদান এবং পরিবারের এক যোগ্য সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে নিহতদের মরদেহ সসম্মানে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বিধায়কদের।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর যাবতীয় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে কলকাতায় ছুটে আসেন। তিনি সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন।
একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের একাংশের রাজনীতি করার চেষ্টার কড়া সমালোচনা করেছে শাসকদল। দল ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে শোকগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের বাঁচানোই প্রধান অগ্রাধিকার। কোনও বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব বা প্ররোচনায় কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন।




