কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: আনন্দের মধ্যেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের বিপুল ভিড়ের চাপে মণ্ডপ চত্বরে তৈরি হয় পদপিষ্টের ঘটনা। শনিবার সন্ধ্যায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। হুড়োহুড়িতে আহত হন একাধিক দর্শনার্থী। এবার চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত ১৯ জনের তালিকা প্রকাশ করল কলকাতা পুলিশ। মৃতদের মধ্যে মহিলা ও পুরুষের পাশাপাশি রয়েছে নাবালক-নাবালিকাও। তালিকায় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান-সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের নাম রয়েছে। বিহারের দুই বাসিন্দার নামও তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের তালিকায় রয়েছেন অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮), শ্রীপর্ণা পোদ্দার (২৬), মিঠু মণ্ডল (৪৫), আকৃতি কুমারী (১৭), বর্ণালী হালদার (১৭), শুভম সোনকর (৩৩), আরতি সরকার বিশ্বাস (৪৫), টগর বেজ (৩৭), তানিয়া বিশ্বাস (১৮), কল্পনা জানা (৪৬), বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬), স্নেহা ভাণ্ডারী (২০), সন্দীপ বেজ (১৪), পিয়ালি প্রামাণিক (২৫), প্রিয়া সমাদ্দার (১৮), দিলীপ ঘোষ (৫৯), প্রাঞ্জল সরকার (১৩), আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তব এবং দীপালি ঘোষ (৫৪)।
মৃতদের ঠিকানা অনুযায়ী, তাঁদের কেউ কলকাতার শ্যামপুকুর, মানিকতলা ও বরানগর এলাকার বাসিন্দা, কেউ আবার হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। বিহারের মুজফ্ফরপুর ও সাহেবগঞ্জের ঠিকানাও তালিকায় রয়েছে। সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে সেই বিহার থেকে কলকাতায় এসেছিলেন দম্পতি। চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় সাত বছরের শিশু আয়ান্স কুমার শ্রীবাস্তব ও তার বাবা অভিষেক কুমার শ্রীবাস্তবের (৩৮)। ঘটনায় আহত হন শিশুটির মাও নীলু শ্রীবাস্তবও। সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। বাবা-ছেলের নিথর দেহ ঘিরে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবার পরিজনরা।
শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে বিপত্তি ঘটে। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ মণ্ডপের বেরোনোর গেটের কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা তৈরি হয়। ঘটনায় অসুস্থ ও আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজে যোগ দেয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী-সহ অ্যাম্বুল্যান্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত চোরবাগান পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।





