নিউজ ডেস্ক : কলকাতার জনপ্রিয় দুর্গাপুজো গুলির মধ্যে অন্যতম চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো। দীর্ঘ দিন ধরে এই পুজো সকলের মনে দাগ কেটেছে। নিজের অভিনব থিমের জন্য বরাবরি চর্চিত এই পুজো। মানুষের সমাগম থাকে অনেকখানি। কিন্তু এ বছর দুর্গাপুজোয় একেবারে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে চোরাবাগান। দুর্গাপুজোকে ঘিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পর সামনে এল পুজোর প্রাক্তন উদ্যোক্তা জয়ন্ত ব্যানার্জির প্রতিক্রিয়া। একসময় যে পুজোকে ঘিরে তাঁর বহু স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও আবেগ জড়িয়ে ছিল, সেই পুজোমণ্ডপে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে পুরীতে রয়েছেন জয়ন্তবাবু। সেখান থেকেই ঘটনার বিষয়ে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
এ বিষয়ে জয়ন্ত ব্যানার্জি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর আগে তিনি চোরবাগান এলাকায় পুজোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের পর থেকে একের পর এক থিমের চমক মানুষকে দিয়েছিলেন। মানুষের প্রচুর সাড়া পেয়েছেন। কিন্তু একটা সময়ের পর তাদের ওপর নানান চাপ আসে। তিনি একটি ক্লাব ঘর করেছিলেন সেখানে প্রভু জগন্নাথের আরাধনা করতেন। সেখানে তিনি একটি মুরাল এঁকেছিলেন। সেটার মূল টপিক ছিল দেশের সর্বোচ্চ নেতা নরেন্দ্র মোদি মা দুর্গার আরাধনা করছেন। আর সেই কারণে একের পর এক নোটিশ দেওয়া হয় তাকে। বিভিন্ন রকম ভাবে চাপের মুখে পড়তে হয়। তাকে বাধ্য করা হয় মুরালটি ভেঙে ফেলার জন্য। এরপরই তিনি এই পূজা থেকে সরে আসেন। এবং ক্লাবে থাকা জগন্নাথ দেবকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এ বছর তিনি এই পূজার বিষয়ে কোনোভাবেই আগ্রহ দেখাননি। আগে অভিজ্ঞতার পরে এতখানি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি পুজোর সময় তে পুরী চলে যান। তিনি কখনও ভাবতেই পারেননি এমন কোনও ঘটনা ঘটতে পারে চোরবাগানে। তিনি এতে ভীষণই হতাশ হয়ে পড়েছেন। কারণ এই পুজোটা তার কাছে সন্তান সমতুল্য।
এরই পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, তাদের এলাকার পুজোর একটি নিয়ম রয়েছে, দেবী মূর্তিকে সঠিক জায়গায় বসাতে হয়। তা না হলে বরাবরই অঘটন ঘটে এসেছে। এ বছর তিনি দেখেছেন দেবী মূর্তির স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই তার ধারণা এই ঘটনা তার প্রভাবেই ঘটেছে। এই ঘটনা শোনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।




