কলকাতা: দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হল গভীর শোকে। নতুন পোশাক পরে পরিবারের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন কাঁকুড়গাছির সোনকার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়ির মধ্যে ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পরিবারের সবার চোখের সামনে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন বড় মেয়ে শুভম সোনকার। শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করা গেলেও আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার।
পরিবারের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন শুভম
শনিবার কাঁকুড়গাছি থেকে চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন রামজি সোনকার, তাঁর স্ত্রী শকুন্তলা সোনকার এবং তাঁদের দুই মেয়ে শুভম ও শ্রেয়া সোনকার। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবারের সবাই একসঙ্গেই বেরিয়েছিলেন। কিন্তু মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে।
অভিযোগ, আচমকাই ভিড়ের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়ি। সেই সময় একে অপরের হাত ছেড়ে পরিবারের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। মা-বাবা ও ছোট বোনের কাছ থেকে হারিয়ে যান শুভম। প্রথমে তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। চারদিকে মানুষের ভিড়, চিৎকার আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিশেহারা হয়ে পড়েন তাঁরা।
চোখের সামনেই বদলে গেল সবকিছু
পরিবারের সদস্যরা যখন শুভমকে খুঁজছিলেন, ততক্ষণে ঘটে গিয়েছে মর্মান্তিক ঘটনা। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় শুভমের। যে মেয়ে কয়েক মুহূর্ত আগেও পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন, তাঁরই নিথর দেহ দেখতে হল পরিবারের সদস্যদের।
এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শুভমের মা শকুন্তলা সোনকার এবং বাবা রামজি সোনকার। ভিড়ের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে তাঁরা আঘাত পান বলে প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, দিদিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন ছোট বোন শ্রেয়া। মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের উৎসবের আনন্দ পরিণত হয়েছে আজীবনের যন্ত্রণায়।
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। উৎসবের আনন্দে যাতে আর কোনও পরিবারকে এমন শোকের মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সুষ্ঠু প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি কতটা জরুরি, তা আরও একবার সামনে এল।
শুভমের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সোনকার পরিবারে। যে দুর্গাপুজোকে ঘিরে ছিল আনন্দের পরিকল্পনা, সেই পুজোই তাঁদের জীবনে রেখে গেল এক অপূরণীয় ক্ষত।





