কলকাতা: চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করল রাজ্য সরকার। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তবে তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়া যে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং, তা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি নিজেই। ফলে চোরবাগানকাণ্ডের তদন্ত কত দ্রুত শেষ হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে গঠিত এই তদন্তকারী দলে বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, রাজ্যের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের সচিব এবং পুলিশের ডিজি-আইজি-সহ একাধিক আধিকারিক রয়েছেন। তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা কমিটির।
কেন তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া কঠিন?
SIT-এর প্রধান অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানিয়েছেন, তদন্তের কাজ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রথমে খতিয়ে দেখতে হবে, ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছিল এবং এত মানুষের মৃত্যুর পিছনে কোন কোন বিষয় দায়ী ছিল। পাশাপাশি, কারও গাফিলতি বা কর্তব্যে অবহেলা ছিল কি না, সেটিও খুঁজে বের করতে হবে।
তাঁর কথায়, তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হলেও চেষ্টা করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থার সুপারিশও করবে কমিটি।
তদন্তের আওতায় কোন ১০টি বিষয়?
চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
1. ঘটনাক্রম: কখন, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
2. বিপর্যয়ের কারণ: অতিরিক্ত ভিড়, আবহাওয়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গুজব এবং বেরোনোর পথের সীমাবদ্ধতার ভূমিকা।
3. আবহাওয়ার পরিস্থিতি: সেদিন বৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রভাব কতটা ছিল।
4. প্যান্ডেলের পরিকাঠামো: গেট, রাস্তা, ব্যারিকেড, সিঁড়ি ও জরুরি নির্গমনপথের ব্যবস্থা।
5. প্রশাসনের ভূমিকা: পুজো উদ্যোক্তা, পুলিশ, দমকল, হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলির পদক্ষেপ।
6. প্রমাণ যাচাই: সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও, কল রেকর্ড ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি।
7. অনুমতি ও পরিকল্পনা: ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকল্পনা যথাযথ ছিল কি না।
8. গাফিলতি: কারও কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ।
9. ক্ষতিপূরণ: মৃত ও আহতদের পরিবার কতটা আর্থিক সহায়তা পেয়েছে বা পাওয়া উচিত।
10. ভবিষ্যতের নিরাপত্তা: ভিড়ের সীমা নির্ধারণ, প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ, নজরদারি এবং জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরেও আলোচনা
চোরবাগান বিপর্যয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই বলেছেন, ঘটনাটির পিছনে মানুষের ভুল ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তির পরিচয়, পোশাক এবং ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা দরকার। মাইকে প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ঘোষণা করা উচিত ছিল কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, SIT নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে দায়ীদের চিহ্নিত করতে পারবে কি না। তদন্তের রিপোর্টেই স্পষ্ট হতে পারে, এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পিছনে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।




