নিউজ ডেস্ক: আনন্দ-উৎসবের মাঝেই বিরাট বিপর্যয়। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। উৎসব শুরু হতে না হতেই নিভে গিয়েছে আলো। মৃতদের মধ্যে সাত বছরের এক শিশু-সহ একাধিক কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। কাছের মানুষের আকস্মিক মৃত্যুতে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবারগুলি। এবার তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নবমী ও দশমীর দিন নিহতদের বাড়ি বাড়ি যাবেন বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো মঙ্গলবার অর্থাৎ নবমীর দিন জেলায় জেলায় গিয়ে প্রত্যেক পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমানের বীরপুরে যান। চোরবাগান বিপর্যয়ে প্রাণ গিয়েছে ১৪ বছরের সন্দীপ বেজ ও তাঁর মা ৩৭-এর টগর বেজের। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন তিনি। তুলে দেন আর্থিক সাহায্যও।
একইসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু জানান,'দোষীরা শাস্তি পাবেন। 'জীবনগুলো তো ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু পরের দায়িত্বটা নিতে হবে। সেটা কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।' এরপর তিনি যান আরামবাগে। কথা বলেন, পদপিষ্ট হয়ে মৃত পিয়ালি প্রামাণিকের পরিবারের সঙ্গে। নদিয়ার চাকদহের বাসিন্দা, মৃত আরতি সরকারের বাড়িতেও যান শুভেন্দু অধিকারী। স্বজনহারানো পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বৈদ্যবাটি ও বালি যাওয়ারও কথা রয়েছে মুখ্য়মন্ত্রীর।
পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। শোকের আবহে উদযাপন চালানোর সমালোচনায় শুভেন্দুর কটাক্ষ,‘লক্ষ্মী পুজোর আগের দিন হড়পা বানে শতাধিক লোক ভেসে গিয়েছিলেন দার্জিলিং থেকে নাগরাকাটা। তারপরেও কার্নিভাল হয়েছে। আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো ছোট ঘটনা বলব না। আগের কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেছেন এমন কোনও ঘটনায় ২৫ লক্ষ টাকা দিতে? মানুষ দেখছে। আগের সঙ্গে বর্তমানের তফাৎ লোক দেখতে পাচ্ছে। আগের সরকারের সঙ্গে এটাই পার্থক্য।’
শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে বিপত্তি ঘটে। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ মণ্ডপের বেরোনোর গেটের কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা তৈরি হয়। ঘটনায় অসুস্থ ও আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজে যোগ দেয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী-সহ অ্যাম্বুল্যান্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত চোরবাগান পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর মৃতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিবারপিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।





