কলকাতা: চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে একাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করছে বিরোধীরা। এবার সেই সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মানুষের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে অতীতে রাজ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে তিনি চোরবাগানের ঘটনার খবর পান। পরিস্থিতি নিয়ে রাজনীতি করতে চান না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই শোকের মুহূর্তে সকলের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
তবে বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে অতীতের একাধিক দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। মাঝেরহাট সেতু বিপর্যয়, তারাতলার ঘটনা, পানিহাটিতে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর মতো একাধিক ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে হড়পা বানে বহু মানুষের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তৎকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু।
তাঁর বক্তব্য, অতীতে যখন এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল, তখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কী পদক্ষেপ করেছিলেন, সেই প্রশ্নও তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শোকের পরিস্থিতিতে উৎসব ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
চোরবাগানের দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, শোকাহত পরিবারের সদস্যরা তাঁর হাত ধরেছিলেন। সেই মুহূর্তে তাঁর চোখে জল এসে গিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। মৃতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বর্তমান সরকারের উপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়ির জেরে এই বিপর্যয় ঘটে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে দুর্ঘটনার দায় ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ছে। তবে শোকের আবহে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।





