নিউজ ডেস্ক :
দূর্গাপুজোর ঢাকের আওয়াজ থেমেছে, কিন্তু রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আবহ এখনও অটুট। একের পর এক প্রাচীন রীতিকে বুকে আগলে আজও এগিয়ে চলেছে কোচবিহারের রাজপরিবারের সংস্কৃতি। মন্দিরের অন্দরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তৈরি হচ্ছে প্রতিমা, চলছে সাজসজ্জার কাজ। আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা তারপরেই প্রাচীন পরম্পরাকে সাক্ষী রেখে অনুষ্ঠিত হবে এক বিশেষ ধর্মীয় আয়োজন।
কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির চত্বরে অবস্থিত কাঠামিয়া মন্দিরে কোজাগরী লক্ষীপুর্নিমা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী মহালক্ষ্মী পুজো। রাজ আমল থেকে চলে আসা এই পুজো আজও নিজস্ব রীতি ও আচার মেনে পালিত হয়। বর্তমানে মন্দিরের ভিতরেই চলছে মহালক্ষী প্রতিমা নির্মাণের কাজ। প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রঙ ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি।
সাধারণত কোজাগরি লক্ষ্মীপূজায় ঘরে ঘরে দেবীর আরাধনা করেন ভক্তরা। তবে, কোচবিহারের কাঠামিয়া মন্দিরের মহালক্ষ্মী পুজোর রূপ একেবারেই আলাদা। প্রচলিত লক্ষ্মী প্রতিমার পাশে সাধারণত দেখা যায় দেবীর বাহন পেঁচাকে। কিন্তু এখানে দেবীর প্রতিমার চারপাশে রয়েছে শুঁড় উঠিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা চারটি হাতি। তাঁদের মাঝখানে অধিষ্ঠিতা চতুর্ভূজা মহালক্ষ্মী। দেবীর গায়ের লালচে রং প্রতিমার রূপকে আরও স্বতন্ত্র করে তোলে। রাজ আমলের রীতি মেনেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই বিশেষ পুজো।
এই উৎসবের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো দেবরাজ ইন্দ্রের আরাধনা। মহালক্ষ্মীর পাশাপাশি একই দিনে পুজো করা হয় ইন্দ্র দেবেরও। হাতের পিঠে অধিষ্ঠিত দেবরাজের পুজো এই আয়োজনকে বিশেষ মাত্রা দেয়। কোচবিহারের রাজ পরিবারের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও প্রাচীন বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই রীতি।
শুধুমাত্র পুজোর ধরনই নয়, আচার অনুষ্ঠানেও রয়েছে প্রাচীন পরম্পরার ছাপ। বড়দেবী ও কাঠামিয়া মন্দিরের দুর্গাপূজোয় যেমন মহিষ বলির প্রথা প্রচলিত তেমনই মহালক্ষীর পূজোতে রয়েছে বলির রীতি। রাজ পুরোহিতের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাচীন প্রথা মেনে এখানে একজোড়া পায়রা বলি দেওয়া হয়। বলি পর্ব শেষ হলে আয়োজন করা হয় যজ্ঞের।
পুজোর ভোগেও থাকে বিশেষ আয়োজন। পরমান্ন, পঞ্চ ব্যঞ্জনসহ বিভিন্ন পদ নিবেদন করা হয় দেবীকে। রাজপুরোহিত জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে মহালক্ষ্মীর পুজো। সব মিলিয়ে, কোজাগরী পূর্ণিমা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে ফের একবার কোচবিহারে সামনে আসতে চলেছে রাজ আমলের ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের সংস্কৃতির এক অনন্য ছবি।




