নিউজ ডেস্ক: চোরবাগানকাণ্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ। পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতদের চোখ চুরি করে নেওয়া হয়েছে, সমাজমাধ্যমে এমনই একটি দাবি করে ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে কোচবিহার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে। ধৃতের নাম আইনুল হক। সোমবার কোচবিহারের কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৩(২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ধৃত এই ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও যোগ রয়েছে কিনা সেই নিয়েও চলছে তদন্ত।
অভিযোগ, চোরবাগানের দুর্ঘটনার সঙ্গে একটি পুরনো ভিডিয়ো জুড়ে দিয়ে মৃতের চোখ চুরি যাওয়ার দাবি ছড়ানো হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ভিডিয়োতে এক মহিলাকে তাঁর পরিবারের এক সদস্যের চোখ চুরি যাওয়ার অভিযোগ করতে দেখা যায়। তবে তদন্তকারীদের দাবি, ভিডিয়োটি চোরবাগানকাণ্ডের নয়। ২০২৫ সালে বারাসত মেডিক্যালে এক যুবকের মৃত্যুর পর ওই অভিযোগ উঠেছিল। পুরনো ভিডিয়োটিকে চোরবাগানের ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে ঘটনার দিন রাতে প্যান্ডেল ভেঙে যাওয়া নিয়ে কে বা কারা ভুয়ো ঘোষণা করল, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সোমবার, মহা অষ্টমীর দিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুললেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল। তিনি বলেন, সেদিন পদপিষ্টের ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো নিয়ে তৈরি হয় জটিল পরিস্থিতি। মণ্ডপের প্রস্থান পথে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েতের জেরে যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বেরনোর পথ অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই সময় মণ্ডপের দিকে দর্শনার্থীদের আসতে নিষেধ করে মাইকে ঘোষণা করে বলা হয়, 'মণ্ডপের দিকে কেউ আসবেন না। মণ্ডপ ভেঙে গেছে।' এই ঘোষণা ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এই ঘোষণা করা হয়েছিল, কারা তা করেছিলেন এবং কী কারণে মণ্ডপের অবস্থা খারাপ বলে জানানো হয়েছিল, তা নিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল
শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে বিপত্তি ঘটে। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ মণ্ডপের বেরোনোর গেটের কাছে এই ঘটনাটি ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা তৈরি হয়। ঘটনায় অসুস্থ ও আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজে যোগ দেয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী-সহ অ্যাম্বুল্যান্স। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত চোরবাগান পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।





