গত সপ্তাহেই ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে যৌন হেনস্থার মামলা থেকে বেকসুর খালাস ঘোষণা করেছিল দিল্লির রাউস অ্যাভেনিউ কোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে ৬ মহিলা কুস্তিগির যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন। কিন্তু অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি বলেই আদালতের এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে অংশ সামনে এসেছে, তাতে স্পষ্টভাবে অভিযোগগুলিকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গভীর ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩-এর এপ্রিল-মে মাসে। ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছিলেন অলিম্পিক পদকজয়ী বিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক-সহ একাধিক তারকা কুস্তিগির। ব্রিজভূষণকে কুস্তি ফেডারেশনের সভাপতি পদ থেকে সরানোর পাশাপাশি তাঁকে গ্রেফতারের দাবিও ওঠে। পরে ২৮ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত।
মামলার শুনানিতে অভিযোগগুলির মধ্যে একাধিক ‘অস্বাভাবিক’ মিল খুঁজে পেয়েছে আদালত। একই সময়ে, একই জায়গায় এবং প্রায় একই ধরনের অভিযোগ ওঠার বিষয়টি আদালতের নজর এড়ায়নি। অভিযোগের ভাষা ও ধরনেও ছিল যথেষ্ট সাদৃশ্য। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গোটা বিষয়টি যেন আগে থেকেই ‘রিহার্সাল’ করা হয়েছিল। অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগিরদের বয়ানও খতিয়ে দেখা হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জন পরে নিজেদের বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। আদালতে তাঁরা দাবি করেন, ওই বয়ান দেওয়ার জন্য তাঁদের উপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল। তাঁদের এই বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে করেছে আদালত।
অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দিল্লির আদালত। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া অভিযোগগুলির এমন অস্বাভাবিক সাদৃশ্য তৈরি হওয়া কঠিন। রায়ের পরে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিজভূষণ নিজেও দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ করা হয়েছিল। তাঁকে দোষী মনে করা ব্যক্তিদের এখন আত্মসমালোচনা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে রায়ের পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি প্রকাশ্যে এলে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।