নেপাল, নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের কোলে ফের বড়সড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কালো ছায়া। নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের জিরং এলাকায় ধ্বংসাবশেষ জমে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক হ্রদের বাঁধ ভেঙে নতুন করে তীব্র হড়পা বানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভয়াবহ হিমবাহ ধসে ৪৬৯ জনের সলিলসমাধির মাত্র আটচল্লিশ ঘণ্টার মাথায় এই ঘটনায় সীমান্তে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চীন ও নেপাল উভয় দেশই আপৎকালীন ভিত্তিতে সমস্ত অনুসন্ধান ও ত্রাণ অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নেপাল পুলিশের তরফে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা দ্রুত খালি করার কড়া বার্তা জারি করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা সকলকেই অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। নেপালের রসুয়া জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক নরেন্দ্র পরিয়ার জানিয়েছেন, স্থানীয় নদীতে জলস্তর হু হু করে বাড়ছে এবং যে কোনও মুহূর্তে তা নিম্নাঞ্চল ভাসিয়ে দিতে পারে। আকাশপথে হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজ পুরোপুরি স্তব্ধ। আতঙ্কে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ি ঢাল বেয়ে উঁচু জায়গার দিকে ছুটছেন।
এদিকে এখনও পর্যন্ত কয়েকশো বিদেশি পর্যটক-সহ প্রায় ১,৪০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার তিব্বতের জিরং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় প্রবল ভূমিধস নেমে মাটির স্তূপ ও পাথরে আটকে জলপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে সেখানে একটি সুবিশাল কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, জল বেরোনোর পথ না থাকায় বিপুল পরিমাণ ঘোলা জল জমা হয়ে গাছপালা ভাসিয়ে দিয়ে সেই মাটির বাঁধে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছিল। অবশেষে সেই বিপজ্জনক অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে জল নামতে শুরু করায় চীনা উদ্ধারকারী দলগুলোকেও অন্তত এক কিলোমিটার পিছিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে পাহাড় ধস ও তুষারধসের আশঙ্কায় আপাতত রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ছাড়া কোনো উপায় নেই দুই দেশের প্রশাসনের কাছে।