নিউজ ডেস্ক: ‘ব্যারিকেডের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে’,সিজেপি নেতাদের তীব্র ভর্ৎসনা দিল্লি হাইকোর্টের, প্রত্যাহার হেফাজত বিরোধী আর্জি।“ব্যারিকেড এমনি এমনি দেওয়া হয় না, তার একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে।” যন্তর মন্তরে জোর করে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে বন্দি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে বুধবার এভাবেই তীব্র ভর্ৎসনা করল দিল্লি হাইকোর্ট। পুলিশি অনুমতির তোয়াক্কা না করে বিক্ষোভ দেখানো এবং আইন ভাঙার প্রবণতা নিয়ে শুনানিপর্বে বিচারপতিদের ক্ষোভের মুখে পড়েন ধৃতদের আইনজীবী। আদালতের কঠোর মনোভাব আঁচ করতে পেরে শেষ পর্যন্ত বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজত বৃদ্ধির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলনকারী পক্ষ
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুতেই। অক্টোবর মাসের ১১ তারিখে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ধর্না কেন্দ্র যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের তালিকা থেকে ‘ডি-নোটিফাই’ বা বাতিল ঘোষণা করে দিল্লি পুলিশ।
অভিযোগ, এর ঠিক তিন দিন পর, অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর নির্দেশ অমান্য করে তালাবন্ধ গেট টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালান সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা সৌরভ ও আশুতোষ। তার পরেই তাদের গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। ১৯ অক্টোবর মন্দির মার্গ থানার এসইএম শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় তাদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়িয়ে দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই মঙ্গলবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা।
বুধবার শুনানির সময় বিচারপতিদের বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তোলে তাঁদের আচরণের যৌক্তিকতা নিয়ে। বিদেশে ঘটা সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও অশান্তির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আদালত স্পষ্ট জানায়, “আপনারা হয়তো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করতে পারেন, কিন্তু পুলিশি অনুমতির প্রয়োজন এই কারণেই যাতে কোনো বহিরাগত বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি এসে দলে ঢুকে পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে। একটা ব্যারিকেড ভাঙলে পেছনে আরও বহু মানুষ ঢোকার রাস্তা তৈরি হয়।”
আন্দোলনকারীদের আইনজীবী অভিক চিমনির উদ্দেশে আদালত আরও পর্যবেক্ষণ দেয়, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-র উপযুক্ত নিয়ম ও স্তর মেনে চলার বদলে সরাসরি হাইকোর্টে আবেদন করা মোটেই যুক্তিযুক্ত নয়। আগে নিম্ন আদালত বা রিভিশনাল কোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আদালত মন্তব্য করে, যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে আগেই আইনি অস্ত্র প্রয়োগের কোনো মানে হয় না।
শুনানির একপর্যায়ে ধৃতদের বয়স জানতে চায় বেঞ্চ। আইনজীবী জানান, সৌরভের বয়স ২৭ এবং আশুতোষের ৩২। এর প্রেক্ষিতে রসিকতার সুরে আদালত জানায়, ১৯৯৭ সালের পরে জন্ম না হলে তাদের আর যা-ই হোক ‘জেন-জি’ বলা চলে না।





