নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবার তার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক উঠে এলো আদালতের এজলাসে। একদিকে প্রশাসনের পদক্ষেপ এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন অন্যদিকে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি, দুয়ের সংখ্যাতে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে। এই মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে আইনজীবীদের মধ্যেও। বিশেষ করে ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলি এই আইনি লড়াইকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
https://x.com/LiveLawIndia/status/2112789835601854902
ককরোচ জনতা পার্টির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনের জরুরি শুনানিতে সম্মতি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। বুধবার, ২১ অক্টোবর, তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। আর তার আগেই আবেদনটি আদালতে উত্থাপন করা হয়। বিচারপতি সুব্রামনিয়াম প্রসাদের এজলাসে মামলাটি তালিকাভুক্ত হয়। দুই নেতার পক্ষে আইনজীবী অভিক চিমনি সওয়াল করেন। দিল্লী পুলিশের হয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী আশীষ দীক্ষিত।
আদালতে শুনানির শুরুতে আইনজীবী চিমনি ১৯ অক্টোবরের নির্দেশ বাতিল করার আবেদন জানান। আদালতে আগের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতি উল্লেখ করেন, ১১ অক্টোবর জামিনের বন্ড জমা দেওয়ার পর যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করা হয়েছিল। এরপর দুই আবেদনকারীকে ফের গ্রেফতার করা হয় বলে মামলার বিবরণে উঠে আসে। তাঁদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে প্রতিবাদের অনুমতি, মুচলেকার শর্ত এবং সেই শর্ত ভাঙ্গার অভিযোগের বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়। বিচারপতি জানতে চান, জামিনদার দেওয়ার শর্তকে অবৈধ বলা যায় কি না। একইসঙ্গে তিনি জানান মামলার বিভিন্ন দিক এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যন্তর মন্তর সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বাতিলের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলেও শুনানিতে উল্লেখ করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তির ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি, এই বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
অন্যদিকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বক্তব্য, তাঁরা জামিনদার জমা দেওয়ার সত্বেও তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। তাঁদের সমর্থকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা নাগরিক স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে, হাইকোর্টে জরুরি শুনানির অনুমতি মিললেও হেফাজত সংক্রান্ত আবেদনে শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশের দিকেই এখন নজর।




