নিউজ ডেস্ক : দক্ষিণ ২৪ পরগনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে ঘিরে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, সম্পত্তির হিসাব এবং একটি বেআইনি কারবারের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র, সবমিলিয়ে তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। এই ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কি রয়েছে, তা জানতে তদন্তকারীদের নজর এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলা-বিষ্ণুপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডলকে ছয় দিনের পুলিশ হেফাজতে নিল মগরাহাট থানার পুলিশ। পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা আদালত থেকে তাঁকে নিয়ে আসা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁকে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, গাঁজা ব্যবসার সঙ্গে যোগ এবং কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলি তদন্তের আওতায় এসেছে। এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চাইছেন তদন্তকারীরা। বিষয়কে কেন্দ্র করে তদন্তের সূত্রে দিলীপ মণ্ডলের নাম উঠে এসেছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে ওই কারবারের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তাঁর সম্পত্তির উৎস কি এবং অভিযোগের পিছনে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য- প্রমাণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে। সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ প্রাক্তন মন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল। তাঁর দাবি, তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে। গাঁজা ব্যবসার সঙ্গে তাঁর যোগ রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে, এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। তাঁর বক্তব্য এবং পুলিশের অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত সত্য কোথায়, তা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন তদন্তকারী সংস্থা ও বিচারব্যবস্থার।
তবে, ছয় দিনের পুলিশ হেফাজত এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে, সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে কি প্রমাণ পাওয়া যায় এবং বেআইনি কারবারের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রীর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে। তবে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গোটা বিষয়টি অভিযোগের পর্যায়ে থাকছে। আগামী দিনে পুলিশের হাতে আসা তথ্য এবং আদালতে পেশ করা প্রমানই এই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে। পুলিশের তদন্তে ঠিক কি উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।




