নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয় এড়াতে পূজা উদ্যোক্তা ও স্থানীয় পুলিশ কর্মীদের জন্য আগাম সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা কল্যাণ মুখোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বড় বড় পুজো মণ্ডপগুলোতে প্রবেশের পথ, জরুরি নির্গমন এবং দুর্ঘটনার মুহূর্তে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আগে থেকেই সুস্পষ্ট নির্দেশিকা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
পুজো মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, “ আমাদের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর আছেন, ভীষণ অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারেরা রয়েছেন যারা এই কাজ করে করে অভিজ্ঞ হয়েছেন। তারা যদি বসতে থাকেন এবং তাদের প্যান্ডেল অনুযায়ী বলে দেন যে আপনার কিন্তু এই হবে এন্ট্রি, এই হবে এক্সিট... আগুন লাগলে এই করবেন, হঠাৎ করে কারও মাথা ফেটে গেল কী হলো কোন স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়ে যাবেন সেটা ঠিক করুন। এরম করে যদি প্রতিটা পুজো প্যান্ডেলকে আমরা আলাদা করে ট্রেনিংটা দিতে পারি উদ্যোক্তাদের, তাহলে আমার মনে হয় যে এই জিনিসটা অনেকটাই অ্যাভয়েড করা যাবে।”
যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, “ওখানে আসলে যেটা হয়েছিল, খুব সাধারণ মানুষের মতন উদ্যোক্তারা এবং হয়তো যে ক'জন পুলিশ সামনে ছিলেন তারা সবাই বিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলেন। ওভারহোয়েমড হয়ে যাওয়া যাকে আমরা বলি। এইটা হচ্ছে একটা যেকোনো ক্যাটাস্ট্রফিতে বা যেকোনো দুর্ঘটনায় মারাত্মক জায়গা যে যখন মানুষ কি করবে বুঝতে পারে না। ওইখানেই যদি আমার প্রফেশনাল পাঁচটা লোক থাকে, তারা জানে যে আমাকে তখন এইটাই করতে হবে।”
প্রতি বছর দুর্ঘটনা না ঘটলে যাতে কোনো ঢিলেমি বা আত্মতুষ্টি না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “এক বছর দুর্ঘটনা হলো না, দু'বছর হলো না, তখন আমাদের একটা কমপ্লেসেন্সি চলে আসে যে ঠিক আছে ঠিক আছে আমরা তো সব জানিই। ঢিলেমি চলে আসে। সেই ঢিলেমিটা আসতে দেওয়া যাবে না। প্রত্যেক বার এটা একটা রুটিন করতে হবে।”
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কয়েক হাজার মানুষের হুড়োহুড়ির মধ্যে অল্প কয়েকজন পুলিশের উপস্থিতি হয়তো সবসময় স্পষ্ট বোঝা যায় না। এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশের দক্ষতা ও আন্তরিকতার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশের তরফ থেকে আমি একটা কথা বলতে পারি— এতদিন চাকরি করলাম ৩০ বছর— পুলিশের একটা জিনিস কিন্তু থাকে, কোনো মানুষ যদি আহত হয়ে যান... সেখানে কিন্তু পুলিশ ভীষণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ...পুলিশের মধ্যে ওইটুকু জিনিস আছে যে আমি যেভাবে হোক এই মানুষটা জলে পড়ে গেছে নাকি তুলে নিয়ে আসব, যেভাবে হোক এ অজ্ঞান হয়ে গেছে কি পদপিষ্ট হয়েছে একে নিয়ে আসব। সুতরাং এইটা আউটরাইট আমি মানতে পারছি না যে কলকাতা পুলিশই বলুন বা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বলুন... কোনো মানুষ আহত হয়ে পড়ে আছে তাকে তুলে না নিয়ে গিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাবে।”
একই সঙ্গে জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো এবং স্থানীয় থানার কর্মীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি যোগ করেন, “আমরা যদি পুলিশের লোকগুলোকেও সঙ্গে নিই, উদ্যোক্তাদের যেমন নিলাম, ওই থানার পুলিশকেও সঙ্গে নিলাম... তাদের নিয়ে যদি আমরা বসি যে দেখো তোমার এলাকায় এই পুজোটা আছে, এখানে কিন্তু আমি কয়েক লক্ষ লোক আসা আটকাতে পারবো না। তাহলে এই এই ধরনের দুর্ঘটনা ওখানে হতে পারে, তাহলে সেটা হলে তুমি কি কি করবে?”
প্রতিবেদনের শেষে উল্লেখ করা হয় যে, পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা পরিমাপক ও আগাম পরিকল্পনাই যেকোনো বড় দুর্ঘটনা রোধে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।




