নিউজ ডেস্ক : উৎসবের আলোয় যাতে বিষাদের ছায়া না পড়ে, সে ব্যাপারে এবার গোড়া থেকেই বাড়তি সতর্কতা নিল রাজ্য সরকার। চোরবাগানের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর শহরের সার্বিক নিরাপত্তা ও ভিড় সামলানোর কৌশলে বড়সড় বদল আনা হচ্ছে। সাধারণ দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুজো মণ্ডপগুলিতে তথাকথিত ‘ভিআইপি কালচার’ পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রবিবার শহরের সার্বিক পরিস্থিতি নিজে খতিয়ে দেখতে পথে নামেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে সল্টলেকের আরক্ষা ভবনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুমে যান তিনি। সেখানে রাজ্যজুড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, নজরদারি পরিকাঠামো এবং যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
এরপর তিনি সরাসরি পৌঁছান লালবাজারে কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে। কন্ট্রোল রুমে বসে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ ও মনিটরিং ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখেন। বিশেষ করে উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার বড় ও জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপগুলির প্রবেশ-প্রস্থান পথ, দর্শনার্থীদের গতিবিধি এবং ভিড়ের ঘনত্ব কীভাবে সামলানো হচ্ছে, তার রিয়েল-টাইম তদারকি করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। পুজো উদ্যোক্তারা যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাস্তায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং দিনরাত এক করে চলছে নজরদারি। পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী রিয়েল টাইমে ট্র্যাফিক ও নিরাপত্তার ছক বদলানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
উৎসব সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন রাখতে সবশেষে পুজো উদ্যোক্তা ও সাধারণ দর্শনার্থী উভয়ের কাছেই কর্তব্যরত পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।




