নিউজ ডেস্ক: শারদোৎসবের আনন্দে গা ভাসিয়ে রাজপথে লাগামছাড়া উচ্ছ্বাস রুখতে পুজো জুড়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। ষষ্ঠী থেকে দশমী এই ক’দিনে শহরের ১০টি ডিভিশন মিলিয়ে ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘন ও অন্যান্য অভিযোগে মোট মামলা দায়ের হয়েছে ৪ হাজার ১৮টি। এর মধ্যে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হেলমেটহীন বাইক চালক এবং তিনজনকে চাপিয়ে দ্রুত গতিতে দৌড়ানোর মতো বেপরোয়া মনোভাবই সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে পুলিশের নাকা তল্লাশিতে। বেআইনি কার্যকলাপ ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে এই ক'দিনে মোট ৩৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ষষ্ঠীর দিন থেকেই শহরের রাস্তায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। ষষ্ঠীতে বিভিন্ন কারণে ৮৫টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি মোট ৪৯৫টি মামলা রুজু হয়। এরপর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্র্যাফিক আইন ভাঙার প্রবণতাও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। প্রথম সপ্তমীতে মোট মামলার সংখ্যা ছিল ৬১২টি, বাজেয়াপ্ত হয় ১২১টি গাড়ি। তবে দ্বিতীয় সপ্তমীতে সেই ছবিটা পৌঁছায় অন্য মাত্রায়। এক দিনেই মোট মামলার সংখ্যা একলাফে দাঁড়িয়েছিল ৮৩৩-এ, যার মধ্যে শুধু হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোর জন্যই মামলা হয়েছিল ২৬৯টি এবং মদ্যপ চালকদের বিরুদ্ধে ১২০টি।
অষ্টমী ও নবমীর রাতেও রাজপথে নজরদারি শিথিল হতে দেয়নি ট্র্যাফিক ও সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকর্মীরা। অষ্টমীতে নাকা পয়েন্টগুলিতে তিন সওয়ারি নিয়ে বাইক চালানোর ১৫৫টি ঘটনা এবং হেলমেটহীনতার ২৩১টি মামলা ধরা পড়ে। মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭২৬টিতে। নবমীর রাতেও বেপরোয়া গতি ও মাতাল চালকদের দাপট বজায় ছিল। সেদিন সর্বাধিক ৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং দায়ের হয় মোট ৭৮২টি মামলা। যার মধ্যে হেলমেট না থাকায় ২৮৫টি ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে ১১০টি কেস দেওয়া হয়। দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জনের রাতেও পুলিশি সক্রিয়তা বজায় ছিল। বিসর্জনের ভিড়ের মধ্যেও মদ্যপ অবস্থায় ড্রাইভ করার ১২২টি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ১৩৩টি মামলা হয়। ওই রাতে মোট ৫৭০টি মামলা এবং ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রশাসনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, পুজোর ভিড়ে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সেই নির্দেশ মেনে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংযোগস্থলে কড়া পাহারা বসানো হয়। পুলিশের এই সক্রিয় পদক্ষেপে একদিকে যেমন বড়সড় পথ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তেমনই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিল প্রশাসন।





