বারাসত: দুর্গাপুজোর দশমীর আবহ কাটতে না কাটতেই উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে সন্দেহজনক রাসায়নিক উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। যশোর রোডের ধারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা একটি সাদা গাড়িকে ঘিরে তৈরি হয় আতঙ্ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বারাসত জেলা পুলিশের আধিকারিকরা। পরে তদন্তে যোগ দেন বম্ব স্কোয়াড, বেঙ্গল এসটিএফ, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং NSG কম্যান্ডোরা।
ঘটনাটি ঘটে ২১ অক্টোবর। দুপুরের পর থেকে যশোর রোডের ধারে গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। গাড়িতে তরল রাসায়নিক থাকার খবর সামনে আসতেই এলাকায় উদ্বেগ বাড়ে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গাড়িটিকে ঘিরে তল্লাশি শুরু হয়।
গাড়ি থেকে কী কী উদ্ধার হয়েছে?
প্রাথমিক তল্লাশিতে গাড়ি থেকে ছয়টি প্যাকেটে হলুদ রঙের রাসায়নিক এবং একটি প্যাকেটে সাদা রঙের রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী যৌথ তল্লাশিতে এক কেজির বেশি স্পেন্টার, অল্প পরিমাণ সিঁদুর এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো বিস্ফোরক পদার্থ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকগুলির প্রকৃত পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করতে সেগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রাথমিকভাবে শক্তিশালী কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের খবর। সেই কারণে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে আসা NIA ও NSG-র দল ফিরে যায়। যদিও রাসায়নিকগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
গ্রেফতার গাড়ির মালিক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
এই ঘটনায় প্রথমে গাড়ির চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পরে গাড়ির মালিক রাকিবুল ইসলামকে বিস্ফোরক পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া পদার্থের প্রকৃত চরিত্র এবং সেগুলি কী উদ্দেশ্যে গাড়িতে রাখা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
ঘটনায় দত্তপুকুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকের উৎস, পরিবহণের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ব্যবসার কাজে বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। তবে সেই যাতায়াতের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে, ব্যস্ত যশোর রোডের ধারে গাড়ি থেকে সন্দেহজনক রাসায়নিক উদ্ধারের ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের পরই জানা যাবে, উদ্ধার হওয়া পদার্থগুলি কতটা বিপজ্জনক ছিল এবং এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী।





