কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ফিফার দুর্নীতি-কাণ্ডে এ বার সামনে এল আরেকটি বিস্ফোরক তথ্য। আন্তর্জাতিক ফুটবলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার মিডিয়া ও বিপণন স্বত্ব পেতে ঘুষ দেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করলেন আর্জেন্টিনার ক্রীড়া বিপণন সংস্থার দুই কর্তা হুগো জিঙ্কিস এবং তাঁর ছেলে মারিয়ানো জিঙ্কিস। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছন তাঁরা।
২০১৫ সালে ফিফাকে ঘিরে যে বিরাট দুর্নীতি-কাণ্ড প্রকাশ্যে এসেছিল, তারই সূত্র ধরে বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই তদন্তে ফিফা-সহ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছিল। জুরিখে ফিফার কর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযানও চালিয়েছিল মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা।
মার্কিন আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, হুগো এবং মারিয়ানো জিঙ্কিস তাঁদের সংস্থা ‘ফুল প্লে’-র মাধ্যমে বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতার লাভজনক মিডিয়া ও বিপণন স্বত্ব পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তাদের ঘুষ দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব এবং কোপা আমেরিকার মতো বড় প্রতিযোগিতার ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্বও সেই তালিকায় ছিল। অভিযোগ, ফুটবল কর্তাদের সমর্থন আদায় করতেই বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পরে এ বার সেই দুর্নীতির অভিযোগের দায় কার্যত স্বীকার করলেন জিঙ্কিস পিতা-পুত্র।
অবশ্য মামলা আদালতে গড়ালেও শেষ পর্যন্ত বিচারের আওতায় পড়তে হচ্ছে না তাঁদের। মার্কিন সরকারের সঙ্গে হওয়া ‘ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা ডিপিএ-র শর্ত অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। তবে তার বিনিময়ে বিপুল আর্থিক জরিমানা দিতে হবে।
হুগো ও মারিয়ানো জিঙ্কিস মোট ৫০ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় কয়েকশো কোটি টাকা, দিতে সম্মত হয়েছেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, তাঁরা ফিফা, কনকাকাফ এবং কনমেবলকে প্রতারণা করে লাভজনক মিডিয়া স্বত্ব পাওয়ার জন্য একটি পরিকল্পনা করেছিলেন।
২০১৫ সালের সেই তদন্ত গোটা ফুটবল দুনিয়াকে কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছিল। ফিফার শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, আর্থিক অনিয়ম এবং বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে। একের পর এক গ্রেফতারি, বিচার এবং দোষ স্বীকারের ঘটনায় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার ভাবমূর্তিও বড় ধাক্কা খায়।
সেই পুরনো কাণ্ডের রেশ যে এখনও কাটেনি, জিঙ্কিস বাপ-ছেলের সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি তারই প্রমাণ। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতাগুলির বাণিজ্যিক স্বত্ব ঘিরে কী ভাবে ঘুষের লেনদেন চলত, সেই ছবিই ফের সামনে এনে দিল এই সমঝোতা।