কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ফের তীব্র বিতর্ক ফিফার অন্দরে। সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুরের। ফিফা জানিয়েছে, ১৭ অগাস্ট থেকেই লামুরের সঙ্গে তাদের সব সম্পর্ক শেষ হয়েছে। তবে একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, আসলে বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ইনফান্তিনোর প্রস্তাবের প্রকাশ্য বিরোধিতা করাই কি কাল হল লামুরের? আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচন সামনে থাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে আরও চড়েছে জল্পনার পারদ।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে যোগ দিয়েছিলেন লামুর। ইনফান্তিনোর ফিফা সভাপতি হয়ে ওঠার সময় তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্পর্কেই ফাটল ধরে। সম্প্রতি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ বেসরকারিকরণের পরিকল্পনাটি নিয়ে প্রকাশ্যেই আপত্তি তুলেছিলেন লামুর। তাঁর বক্তব্য এবং অবস্থান নিয়ে ফিফার অন্দরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁর পদ ছাড়ার খবর সামনে আসায় গোটা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ফিফার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে কেভিন লামুরের সঙ্গে ফিফার কর্মসম্পর্ক ১৭ অগাস্ট, ২০২৬-এ শেষ হয়েছে।’’ তবে তাঁর বিদায়ের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অন্য দিকে, উক্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফিফার কর্মীদের জানানো হয়েছে যে লামুরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে এটি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ, নাকি ইনফান্তিনোর সঙ্গে সংঘাতের জেরেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল? সেই প্রশ্নের স্পষ্ট কোনও উত্তর এখনও মেলেনি।
ঘটনার সময়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামো নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়েও নানা মহলে আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই শীর্ষকর্তার এ ভাবে বিদায় সংস্থার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতৃত্বের ধরন নিয়ে নতুন করে নজর টেনেছে। বিশেষ করে আগামী বছরের সভাপতি নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ফিফার ক্ষমতার অলিন্দে এই ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও চর্চা বাড়ছে। তবে লামুরকে সরানোর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক মতবিরোধের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ফিফা এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।