উত্তরপ্রদেশ, পিউ নন্দী: টেনেটুনে ৬০% নম্বর থেকে দেশে তৃতীয়! হার না মানা জেদেই IAS হলেন জুনেদ আহমেদ। স্কুলের রেজাল্ট কখনই মাপকাঠি হতে পারে না,তা আরও একবার প্রমান করল জুনেদ।একজন মানুষের আসল মেধা হল তার স্বপ্ন ও তা পূরণ করার ইচ্ছা।
মাধ্যমিক হোক বা উচ্চমাধ্যমিক নম্বর কোনোদিনই ৬০ শতাংশের গণ্ডি পেরোয়নি তাঁর। এরপর একটি বেসরকারি কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করলেও রেজাল্ট ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। ক্লাসের তথাকথিত 'ফার্স্ট বয়'দের ভিড়ে উত্তরপ্রদেশের জুনেদ আহমেদ ছিলেন নিখাদ এক ব্যাকবেঞ্চার। কিন্তু পড়াশোনায় অত্যন্ত সাধারণ মানের সেই ছেলেই পরবর্তীতে দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় বাজিমাত করে গড়েছেন অবিশ্বাস্য ইতিহাস।
সেন্ট মেরিজ স্কুল ও আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির প্রাক্তনী জুনেদের স্বপ্নটা দানা বাঁধে কলেজ জীবনেই। মনস্থির করেন দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে কাজ করার। সেই লক্ষ্যেই তিনি দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার রেসিডেন্সিয়াল কোচিং একাডেমিতে দিন-রাত এক করে প্রস্তুতি শুরু করেন। তবে সিভিল সার্ভিসের এই পথ জুনেদকে একের পর এক কঠিন ধাক্কা দিয়েছে। পর পর তিনটি প্রচেষ্টায় জুনেদকে ফিরতে হয়েছিল খালি হাতে। কিন্তু বুকভরা জেদ আর অদম্য আত্মবিশ্বাস নিয়ে হাল ছাড়েননি তিনি।
অবশেষে চতুর্থবারের চেষ্টায় অল ইন্ডিয়া ৩৫২ নম্বর র্যাঙ্ক দখল করে ভারতীয় রাজস্ব বিভাগে সুযোগ পান জুনেদ। সরকারি চাকরি পাকা হলেও জুনেদের আসল লক্ষ্য তখনও অপূর্ণ ছিল। তাঁর চোখ ছিল শুধুই আইএএস পদের দিকে। তাই আইআরএস-এর কঠোর প্রশিক্ষণের ব্যস্ত রুটিনের মাঝেই তিনি নতুন উদ্যমে শুরু করেন পড়াশোনা। ডিউটি সামলে প্রতিদিন জুনেদ সময় পেতেন মেরেকেটে মাত্র চার ঘণ্টা।
সেই সামান্য সময়কে নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়ে ২০১৮ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় পঞ্চম প্রচেষ্টায় সারা দেশে তৃতীয় স্থান অর্জন করে আইএএস হন তিনি। অতীতের সাধারণ রেজাল্ট যে ভবিষ্যতের আকাশছোঁয়া স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না, তা নিজের লড়াই দিয়ে প্রমাণ করেছেন জুনেদ আহমেদ।