কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত। নিজেরই এক সহ-সভাপতির অনুরোধ অগ্রাহ্য করে ক্যারিবিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের অনূর্ধ্ব-১৪ যুব প্রতিযোগিতায় হাজির হলেন ফিফা সভাপতি। ডমিনিকান রিপাবলিকের পুন্তা কানায় আয়োজিত ওই প্রতিযোগিতায় ইনফান্তিনোর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ফিফার প্রশাসনিক কাঠামো ও নেতৃত্ব নিয়ে। শনিবার নিজের ইনস্টাগ্রামে অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি পোস্ট করেন ইনফান্তিনো। সেখানে তাঁকে ডমিনিকান রিপাবলিকের রাজনৈতিক ও ফুটবল কর্তাদের সঙ্গে দেখা যায়। অথচ প্রতিযোগিতাটিতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন কনকাকাফ সভাপতি এবং ফিফার সহ-সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানি।
শুক্রবার ইনফান্তিনোকে চিঠি লিখে মন্তাগ্লিয়ানি অনুরোধ করেছিলেন, তিনি যেন ওই অনুষ্ঠানে না যান। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ফিফার সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে সভাপতির উপস্থিতি যুব প্রতিযোগিতার মূল আকর্ষণকে ছাপিয়ে যাবে। বিশেষ করে ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবল প্রশাসনের অন্দরে যথেষ্ট জলঘোলা হয়েছে। ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে সম্ভাব্য আয় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। পরে সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা হলেও ফিফার অন্দরের ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
ইনফান্তিনোর ক্যারিবিয়ান সফর সেই পুরনো বিতর্ককেই ফের সামনে এনে দিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বের ধরন, ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মন্তাগ্লিয়ানির মতো প্রভাবশালী এক ভাইস প্রেসিডেন্ট যখন প্রকাশ্যে সভাপতিকে কোনও অনুষ্ঠানে না যাওয়ার অনুরোধ করছেন, তার পরেও ইনফান্তিনোর সেখানে উপস্থিত হওয়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে বিষয়টি শুধু একটি যুব ফুটবল প্রতিযোগিতায় সভাপতির উপস্থিতি না থেকে বৃহত্তর প্রশাসনিক টানাপড়েনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার অন্দরের এই সংঘাত যে দ্রুত মিটছে না, ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে তারই ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে বিশ্বকাপ বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা ঘিরে অসন্তোষ। অন্যদিকে ফিফার শীর্ষ কর্তাদের মধ্যেই মতপার্থক্য। সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে সভাপতির উপর। যদিও ইনফান্তিনো নিজে এই সফরকে যুব ফুটবলের স্বাভাবিক কর্মসূচি হিসাবেই দেখিয়েছেন, তাঁর উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য পেয়েছে। ফলে ফিফার অন্দরের ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে গড়ায়, এখন সে দিকেই নজর ফুটবল মহলের।