কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: : সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি করানোর পর তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব থেকে যেন চিকিৎসক কোনও ভাবেই বিচ্ছিন্ন না হন এই লক্ষ্যেই সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে নতুন বিধিনিষেধ জারি করল স্বাস্থ্য দফতর। অ্যাডমিশন ডে-র দিন এবং তার পরের দু’দিন—এই মোট তিন দিন সংশ্লিষ্ট সরকারি চিকিৎসক প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। সোমবার এই মর্মে নির্দেশ জারি হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও চিকিৎসকের যে দিন ‘অ্যাডমিশন ডে’, সেই দিন থেকে পরপর তিন দিন তাঁর প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ থাকবে। অ্যাডমিশন ডে বলতে শুধু বহির্বিভাগে রোগী দেখানো নয়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের আউটডোর, রাউন্ড, ইনডোর এবং অস্ত্রোপচার বা কোনও প্রসিডিয়োরের দায়িত্বের দিনকেও বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, যে দিন তাঁর অধীনে কোনও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, সেই রোগীর পরবর্তী চিকিৎসা ও নজরদারির দায়িত্ব নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য দফতরের ব্যাখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি করা রোগীদের পরবর্তী অন্তত ৪৮ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। সেই সময়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন, চিকিৎসায় সাড়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই রোগী ভর্তি করিয়ে পরের দু’দিন বাইরে প্রাইভেট চেম্বারে ব্যস্ত থাকার সুযোগ যাতে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই তিন দিনের বিধিনিষেধ।
প্রাথমিক ভাবে এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে মেডিকেল এডুকেশন সার্ভিসের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসকেরা তাঁরা প্রাইভেট প্র্যাকটিসিং হোন বা নন-প্র্যাকটিসিং এই নিয়মের আওতায় পড়বেন। তবে স্বাস্থ্য দফতরের পদস্থ সূত্রের খবর, শীঘ্রই হেলথ সার্ভিসের অ-শিক্ষক সরকারি চিকিৎসকদেরও একই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। দুই পরিষেবা মিলিয়ে প্রায় ১২-১৩ হাজার সরকারি চিকিৎসকের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে।
এর ফলে সরকারি চিকিৎসকদের সাপ্তাহিক প্রাইভেট প্র্যাকটিসের দিন নির্দিষ্ট করে দেওয়ার বদলে তাঁদের হাসপাতালের দায়িত্বের সঙ্গে তা সরাসরি যুক্ত হয়ে গেল। যেমন, কোনও চিকিৎসকের অ্যাডমিশন ডে যদি সোমবার হয়, তা হলে সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। আবার অন্য চিকিৎসকের অ্যাডমিশন ডে যদি বৃহস্পতিবার হয়, তাঁর ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার-সহ শুক্রবার ও শনিবার এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের যুক্তি মূলত রোগীর স্বার্থকেন্দ্রিক। হাসপাতালে ভর্তি করার পর রোগীর অবস্থা খারাপ হলে বা চিকিৎসা পদ্ধতিতে দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে যাতে সহজেই পাওয়া যায়, সেটাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসার পর প্রথম ৪৮ ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখা হয়।
তবে এই নির্দেশের ফলে সরকারি চিকিৎসকদের কাজের ধরনেও বদল আসতে চলেছে। হাসপাতালে রোগী ভর্তি, চিকিৎসা ও পরবর্তী পর্যবেক্ষণের সঙ্গে তাঁদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সময়সূচিও এখন সামঞ্জস্য করতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরের পরবর্তী নির্দেশে হেলথ সার্ভিসের চিকিৎসকেরাও যুক্ত হলে রাজ্যের সরকারি চিকিৎসকদের একটা বড় অংশের উপরেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।