নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে দেশের বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখা এবং সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে কাঁচা চিনি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সময়সীমা বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। আগে এই সুবিধার আওতায় ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত কাঁচা চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকারকরা আরও দু’মাস সময় পাবেন। তবে আমদানির নির্ধারিত পরিমাণে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। আগের মতোই সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্ক ছাড়ে আমদানি করা যাবে।
চলতি বছরের ২০ অগাস্ট কেন্দ্র প্রথম এই আমদানির অনুমতি দিয়েছিল। শিল্পমহলের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২.৬ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি আমদানি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের দামের সামঞ্জস্য না থাকায় আমদানির গতি তুলনামূলক কম ছিল বলে সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনুকূল হলে যাতে আমদানিকারকরা সহজে চিনি আনতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে (অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর) দেশে চিনির উৎপাদন নিয়ে নতুন হিসাব সামনে এসেছে। আগে উৎপাদনের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা ৩৪৩ লক্ষ মেট্রিক টন থেকে কমিয়ে ৩০৬ লক্ষ মেট্রিক টন করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশে বছরে চিনির চাহিদা প্রায় ২৮০ থেকে ২৮৫ লক্ষ মেট্রিক টন। ফলে উৎপাদনের পূর্বাভাস কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে বাজারে সরবরাহ বজায় রাখা এবং দামের উপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে আমদানির এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শুল্ক ছাড়ে আমদানির সময়সীমা বাড়লেই খুচরো বাজারে চিনির দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, আমদানির পরিমাণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহের উপর।




