নিউজ ডেস্ক: গুজরাতের নবরাত্রির চেনা ছবি মানেই ঢাকের বোল, আলো ঝলমলে মঞ্চ আর হাজারো মানুষের ছন্দে পা মেলানো। সেই ভিড়ের মধ্যেই ঐতিহ্যবাহী চানিয়া চোলি পরে সাবলীলভাবে ডান্ডিয়া ঘোরাচ্ছেন এক তরুণী।
সাধারণ চোখে তিনি আর পাঁচজন উৎসবমুখর নারীর মতোই একজন। কিন্তু এই সাজপোশাকের পেছনে রয়েছে কড়া নজরদারি। তিনি আসলে আহমেদাবাদ পুলিশের ইনস্পেক্টর নিধি কালসারিয়া। সম্প্রতি আহমেদাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর এই ছদ্মবেশী দায়িত্বের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিতেই তা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে সাধারণ মহলে প্রশ্নও ওঠে আন্ডারকভার অফিসারের মুখ এভাবে প্রকাশ্যে এনে দিলে কি অভিযানের উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায় না?
https://www.facebook.com/share/p/19ayzVDFB6/
পুলিশ অবশ্য এই নিয়ে একেবারেই বিচলিত নয়। ইনস্পেক্টর নিধির কথায়, নবরাত্রির শুরুতেই পুলিশ কমিশনার সাংবাদিক বৈঠক করে ছদ্মবেশী নজরদারির বিষয়টি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন। পুলিশের সামাজিক মাধ্যমে তাঁর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার উদ্দেশ্য পরিচয় গোপন রাখা নয়, সাধারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করা যে পুলিশ তাদের সঙ্গেই আছে। একই সঙ্গে এই প্রচার সমাজবিরোধীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা উৎসবের ভিড়ে পাশে দাঁড়ানো যেকোনো ব্যক্তিই উর্দিহীন পুলিশ হতে পারেন।
নিধি জানান, ভিডিও দেখার পর অনেক অংশগ্রহণকারী নিজেই এগিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জির সঙ্গে পুলিশের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটছে এবং যে কোনো সমস্যায় তারা সরাসরি পুলিশের কাছে পৌঁছাতে ভরসা পাচ্ছে।
চলতি বছর শুধু আহমেদাবাদেই ৮৪টি বাণিজ্যিক এবং ১,৩০০টির বেশি পাড়া বা শেরী গরবার আসর বসেছে। বিশাল ভিড় সামাল দিতে মাঠে নেমেছেন প্রায় ১৪ হাজার পুলিশ কর্মী। এর মধ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে নারী, শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ ‘শি’ টিম। শুধু আহমেদাবাদেই এই টিমের ৪৯টি দল দিন-রাত অলিগলিতে নজর রাখছে। ভাদোদরা, রাজকোটের মতো শহরগুলোতেও একই কায়দায় চলছে আন্ডারকভার নজরদারি।
ভাদোদরার অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের প্রধান চন্দ্রিকা আসুন্দ্রা বিষয়টিকে তুলনা করেছেন অনিল কাপুরের সেই বিখ্যাত ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ চরিত্রের সঙ্গে। তাঁর মতে, উর্দি পরলে মানুষ সতর্ক হয়ে যায় এবং নিজেদের আসল আচরণ ঢেকে ফেলে। কিন্তু সাধারণ পোশাকে মিশে থাকলে অসৎ উদ্দেশ্যধারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা অনেক সহজ হয়। তাছাড়া ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেলিং বা মরফিংয়ের মতো অপরাধ রুখতে ছদ্মবেশী নারী পুলিশরা অবিলম্বে অভিযুক্তকে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
শুধু নাচের ময়দানেই নয়, গভীর রাতে গরবা শেষে বাড়ি ফেরা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো দায়িত্বও নিঃশব্দে সামলাচ্ছেন এই অফিসাররা।





