নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে বাড়ছে H1N1 বা সোয়াইন ফ্লু। সংক্রমণের সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পঙ্কজ সিংয়ের আশ্বাস, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।’’ তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসক পর্যাপ্ত রয়েছে। কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর প্রস্তুত। তবে সংক্রমণ বৃদ্ধির আবহে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা মঙ্গলবারই H1N1 পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে দিল্লিতে H1N1 সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে। ২০ অগস্ট পর্যন্ত ১,৭৭৭টি H1N1 সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছিল। একই সময়ে মোট Influenza-A সংক্রমণের সংখ্যা ২,৩৯২ এবং Influenza-A ও B মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২,৬০২। এক দিনে ১১৪টি নতুন H1N1 সংক্রমণও ধরা পড়েছে। গত বছরের একই সময়ে H1N1 আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ২২৯।
এই সংখ্যাই স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার ভ্যাপসা আবহাওয়া, তাপমাত্রার ওঠানামা এবং ভিড়ভাট্টা জায়গায় সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও নজরদারির মধ্যে এনেছে। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, গত দু’সপ্তাহে দিল্লিতে H1N1 রোগীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে উপসর্গ মৃদু হলেও বয়স্ক মানুষ এবং অন্য রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়তে পারে।
তবে আতঙ্কের কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। Indian Council of Medical Research (ICMR)-এর তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, ভারতে নতুন বা আগের তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী কোনও H1N1 স্ট্রেন ছড়াচ্ছে না। বর্তমানে যে ভাইরাসটি ঘুরছে, সেটি মূলত ২০২৫ সাল থেকেই দেশে চলতি থাকা seasonal strain এবং তা উত্তর গোলার্ধের জন্য সুপারিশ করা ভ্যাকসিনের স্ট্রেনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবু দিল্লির হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত রাখার ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি দিতে চাইছে না প্রশাসন। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডাও দিল্লির H1N1 পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেছিলেন। সেখানে রোগের নজরদারি, দ্রুত রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং হাসপাতালের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। হাসপাতালগুলিতে শয্যা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের জোগান পর্যাপ্ত রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, H1N1-এর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা এবং দুর্বলতা। কোনও কোনও রোগীর ক্ষেত্রে বমি বা ডায়রিয়াও হতে পারে। কিন্তু শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা ঠোঁট নীল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
সংক্রমণ রুখতে স্বাস্থ্য দফতরও সাধারণ কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। জ্বর, কাশি বা হাঁচি থাকলে ভিড় এড়ানো, কাশি বা হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় স্কুল, অফিস বা জনবহুল জায়গায় না যাওয়ার উপরও জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই এক দিকে মন্ত্রীর ‘নিয়ন্ত্রণে’ থাকার আশ্বাস, অন্য দিকে মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক—দুই ছবিই পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের বার্তা, আতঙ্ক নয়, সতর্কতাই এখন মূল হাতিয়ার। কারণ H1N1 নতুন কোনও অজানা ভাইরাস নয়; এটি এখন seasonal influenza-এরই একটি অংশ। কিন্তু সংক্রমণের গতি বাড়লে বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
দিল্লির স্বাস্থ্য দফতরের সামনে তাই আপাতত দু’টি লক্ষ্য—সংক্রমণের গতিতে লাগাম টানা এবং একই সঙ্গে হাসপাতালগুলিকে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি রাখা। মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি বৈঠকে সেই প্রস্তুতিরই পরবর্তী রূপরেখা নির্ধারণ হওয়ার কথা।