হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। পুলিশি হেফাজতে দলীয় কর্মীর মৃত্যুতে তার বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই তাকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হয়েছিল ইট কাঁদা এবং চটি। এমনকি চোর ও ডাকাত রানী স্লোগানও শোনা যাচ্ছিল রাস্তার দুপাশ থেকে। এই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামতে চলেছে কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার সেখানে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই গোটা ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেই দায়ী করছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সঙ্গে নাম জানালেন কুনাল ঘোষেরও।
দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, 'ডাকাত রানী অনুপ্রেরণা কুনাল ঘোষের। এই কুনাল ঘোষই একদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ডাকাত রানী বলেছিলেন। তখন আপনারা মিডিয়ারাই তাকে কিছুই বলেননি। কিন্তু গতকাল সাধারণ মানুষ ওকে ডাকাত রানী বলল বলে সেটা দোষ হয়ে গেল। কুনাল ঘোষ ডাকাত রানী বলে দলে প্রমশান পেল, মুখপাত্র এবং সাধারণ সম্পাদক হল। তারপরে বিধায়কের পদও পেয়ে গেল। পাবলিক সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে গতকাল ডাকাত রানী বলেছে।'
বর্তমানে হালিশহরের ঘটনা নিয়ে রাজ্য জুড়ে হুলুস্থুল কান্ড। সমস্ত বিরোধী দল এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কালীঘাট তৃণমূল কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরিবারকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিকে রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, 'এত চুরি করেছেন চোর তো শুনতেই হবে।'
পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ বলেন, 'হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। মানুষের অধিকার আছে নিজের রাগ প্রকাশ করার। আমি নিজেও ইট খেয়েছি। গায়ে এখনও তারা দাগ আছে। বহুবার আমার গাড়িও ভাঙ্গা হয়েছে। আর আজ দুটো ডিম খেয়েছে বলে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি রসাতলে চলে গিয়েছে! কর্মীদের উপর এত অত্যাচারের পর আমাকে যেন কেউ মানবতা বা সৌজন্যের পাঠ দিতে না আসে।'
তবে এ ঘটনার সমালোচনা করে রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, 'এটা করা যায় না, এটা বাংলার রীতি নয়। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই।' এর পরেই অগ্নিমিত্রা পাল জানান, 'গত ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভুল করেছেন। নারীদের সম্মান রক্ষা করতে পারেননি। সাধারণ মানুষের উপর অনেক অত্যাচারও করেছেন। এমনকি অভয়ার মৃত্যুর দিনও সঠিক বিচার দিতে পারেননি তিনি। সেজন্যই ক্ষোভে ফেটে সাধারণ মানুষ এমন কাজ করেছে। কিন্তু তার গাড়ি লক্ষ্য করে কাঁদা ছোড়া বা চোর স্লোগান দেওয়া কোনো ভাবেই সমর্থিত নয়।'