নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ বাতিলের দাবিতে ফের উত্তাল হতে চলেছে রাজধানী। শুক্রবার নির্বাচন সদন অভিযানের ডাক দিয়েছে সদ্য গঠিত নাগরিক মঞ্চ ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’। তবে দিল্লি পুলিশের কোনও আগাম অনুমতি ছাড়াই এই পদযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নতুন করে অশান্তি ও ধরপাকড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোটা নয়াদিল্লি জেলাজুড়ে আগে থেকেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে, যার ফলে পাঁচ জনের বেশি জমায়েত বা মিছিল নিষিদ্ধ।
গত ১৪ অক্টোবর দিল্লির সুরজিৎ ভবনে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, দলিত ও আদিবাসী সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠে এই মঞ্চ। তাদের কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার কনট প্লেসের বাংলা সাহিব গুরুদ্বার থেকে প্যাটেল চকের নির্বাচন কমিশন কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল হওয়ার কথা। পথ অবরুদ্ধ হলে সেখানেই ‘জনগণের সংসদ’ বসিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন আন্দোলনকারীরা। মঞ্চের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ বা প্রশাসন বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। স্লোগান তোলা হয়েছে ‘হর গলি যন্তর মন্তর, হর গাঁও যন্তর মন্তর, মেরা ঘর যন্তর মন্তর’।
এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, বামপন্থী ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষ ও নেহা বোরা, প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, অর্থনীতিবিদ পরকলা প্রভাকর, অভিনেতা প্রকাশ রাজ, কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত এবং লেখক তুষার গান্ধীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দলগুলিকেও সামিল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদ পরকলা প্রভাকরের মতে, ভোটার তালিকার এই সংশোধন আসলে ‘নাগরিকত্বের রক্তপাতহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’। মঞ্চের দাবি, ২০২৪-এর আগের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করতে হবে এবং সিএজি নির্দেশিকা মেনে সামাজিক নিরীক্ষার মাধ্যমে তালিকা সংশোধন করতে হবে। এমনকি সিইসি-র আইনি দায়মুক্তি তুলে নিয়ে তাঁর বিচারের দাবিও তুলেছে তারা।
প্রশাসনের কড়া মনোভাব অবশ্য ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। গত ১০ অক্টোবর এই একই ইস্যুতে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আটক হন দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। সেই দিন প্রায় ৪১ হাজার পুলিশ নামিয়ে শহর জুড়ে নজিরবিহীন অভিযান চলে এবং প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল। পরে শ্রী অরবিন্দ মার্গ ও বাংলা সাহিবের কাছে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হন নেহা বোরা, ঐশী ও প্রশান্ত ভূষণও। তারও আগে ৬ অক্টোবর প্রায় তিন শতাধিক ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদকে নির্বাচন কমিশন যাওয়ার পথে আটকে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বিজেপি ও কমিশন সমস্ত অভিযোগ একবাক্যে খারিজ করেছে। বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র আন্দোলনকারীদের ‘নৈরাজ্যবাদী উপাদান’ বলে তোপ দেগেছেন। অনুমতি ছাড়া এই মিছিল ঘিরে শুক্রবার রাজধানীর রাজপথ ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





