হুগলি, নিউজ ডেস্ক: উৎসবের আনন্দের মাঝেই যেন ঘনিয়ে এসেছে উদ্বেগের মেঘ। একদিকে পুজো মন্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় অন্যদিকে, সেই ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা নিয়ে বাড়ছে প্রশাসনের চিন্তা। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাই উৎসবের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন জেলার বড় পুজো মণ্ডপ গুলিতে শুরু হয়েছে বাড়তি প্রশাসনিক তৎপরতা। কোথাও ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ। পুজোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর পুলিশ ও প্রশাসন।
মহা সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাজার সার্বজনীন দুর্গাপূজায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জন দর্শনার্থী মৃত্যুর এবং ২৫ জন আহত হওয়ার খবর সামনে আসার পর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে অন্য কোনও পূজা মন্ডপে না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই সতর্ক হয়েছে প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলার বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে পরিদর্শনে নামেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের পথ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে হুগলির বিভিন্ন বড় পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়। পুলিশ আধিকারিকদের একটি দল একাধিক মণ্ডপ ঘুরে নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনের সময় কেওটা উজ্জ্বল সংঘের পুজো মণ্ডপে গিয়ে সেখানকার ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা। পুজোর ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা তৈরি না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও গুরুত্ব রয়েছে এই পরিদর্শনে।
অন্যদিকে, কেওটা নবীন সংঘের পুজো মন্ডপে পরিদর্শনের সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রশাসন। সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে প্রতিমা দর্শন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিমা দর্শন বন্ধ রাখা হয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করে নিরাপদে দর্শনার্থীদের প্রবেশের পরিবেশ তৈরি করার নির্দেশ দেন আধিকারিকেরা।
উৎসবের আবহে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বও বেড়ে যায়। তাই শুধুমাত্র মণ্ডপের সৌন্দর্য ও প্রতিমার দর্শনের আয়োজন নয়, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং বিপদের সময় দ্রুত বেরিয়ে আসার উপযুক্ত ব্যবস্থাও অত্যন্ত জরুরি। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনের এই তৎপরতা সেই বার্তাই দিচ্ছে। পুজোর আনন্দ অটুট রাখতে এবং মানুষের প্রাণহানি এড়াতে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা ও প্রশাসনিক নির্দেশ কার্যকর করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




