কলকাতার কাছেই রয়েছে এমন এক ঠিকানা, যেখানে এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস! ধ্বংসস্তূপের কাছেও টিকে রয়েছে জমিদার বাড়ির অংশ, পুরনো কাছারিবাড়ি আর টেরাকোটায় সাজানো প্রায় কয়েকশো বছরের প্রাচীন মন্দির। পুজোর ছুটিতে সন্তানদের কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন ইতিহাসের এই জীবন্ত দলিল।
পুজোর ছুটিতে দূরে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা নেই? পরিবারের ছোটদের শুধু চিড়িয়াখানা, পার্ক অথবা বিনোদনের কেন্দ্র নয় বাংলার ইতিহাসের সাথে পরিচয় করাতে চান? তাহলে গন্তব্য হতে পারে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের কুসমুড়ি। কলকাতার থেকে একদিনের সফরেই ঘুরে দেখা সম্ভব এই প্রাচীন জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ। গ্রামবাংলার শান্ত পরিবেশের মধ্যে এই কয়েকশো বছরের ইতিহাস যেন আজও নিঃশব্দে কথা বলে চলেছে।
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে জানা যায়, আনুমানিক ১৭৫০ - ৫১ সাল নাগাদ রাজস্থান থেকে বাংলায় এসেছিল দেও পরিবার। নারায়ণগড়ের কৃষ্ণপুর গ্রামে বসবাস করা শুরু করেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে, জমিদারি লাভ করে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেন। এবং তারপর গড়ে ওঠে বিশাল জমিদারবাড়ি, কাছারিবাড়ি এবং পারিবারিক দেবতা উপাসনার জন্য মন্দির।
জানা গিয়েছে, এক সময় এই জমিদার পরিবারের হাতে ছিল প্রায় কয়েকশো বিঘা জমি। হাতিশাল, খাজনা আদায়ের ব্যবস্থা, কর্মচারীদের আনাগোনা- সব মিলিয়ে জমজমাট ছিল জমিদারবাড়ির চত্বর। কিন্তু জমিদারি প্রথার অবসানের সঙ্গে বদলে যায় ছবিও। উত্তরসূরিরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন। তারপর ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হতে থাকে পুরনো বসতভিটে। সময়ের সঙ্গে ভেঙে যায় জমিদার বাড়ির একাধিক অংশ।
তবে, ইতিহাস একেবারে মুছে যায়নি। এখনও টিকে রয়েছে জমিদার বাড়ির কিছু অংশ ও কাছারিবাড়ি। আর তার মধ্যেই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো প্রাচীন মন্দিরটি। মন্দিরের গায়ে রয়েছে টেরাকোটার আদলে তৈরি ছোট বড় নানা মূর্তি ও কারুকাজ। কয়েকশো বছর ধরে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করেও বহু নিদর্শন এখনও চোখে পড়ে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মন্দিরটি শুধুমাত্র ইতিহাসের স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে নেই, বরং আজও সেখানে নিয়মিত পূজো হয় জমিদার বাড়ির কূলদেবতার।
জমিদার পরিবারের বর্তমান সদস্য অরুণ দেব জানান, পুরনো বাড়ির বেশ কিছুটা অংশ তাঁরা নিজেদের মতো সংরক্ষণ করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায়, কয়েকশো বছরের ইতিহাস তাঁদের পরিবারের সঙ্গে এখনও জড়িয়ে রয়েছে।
পুজোর সময় শরতের মেঘ, গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশ, আর চারপাশে ছড়িয়ে থাকা অতীতের স্মৃতি, এইসব মিলিয়ে ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে এই জায়গা। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে গেলে, বইয়ের পাতার জমিদার বাড়িকে তাঁদের বাস্তবে দেখানোর সুযোগ মিলবে। তাই পুজোর ছুটিতে দীর্ঘ সফর নয়, একদিনের ছোট্ট ভ্রমণেই ইতিহাসের দরজা খুলে দেখতে চাইলে তালিকায় রাখতেই পারেন নারায়ণগড়ের কুসমুড়ির এই প্রাচীন জমিদার বাড়িকে।