হায়দ্রাবাদ: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হলেন শত শত মানুষ। শনিবার সন্ধ্যায় হায়দ্রাবাদের হুসেন সাগর হ্রদের ধারে ট্যাঙ্ক বুন্ড এলাকায় মানবশৃঙ্খল গড়ে তুলে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানালেন বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিলের দাবিও ওঠে এই কর্মসূচি থেকে।
নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, কৃষক সংগঠন, দলিত সংগঠন, যুব ও ছাত্র সংগঠনগুলির যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। পড়ুয়া, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী এবং শ্রমজীবী মানুষও এতে অংশ নেন।
SIR নিয়ে কেন ক্ষোভ?
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে তেলঙ্গানার প্রায় অর্ধেক ভোটার ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। যদিও এই আশঙ্কা ও অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম অবিলম্বে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রকৃত ভোটারদের তথ্য যাচাই করা, বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার সংকুচিত করা নয়।
নিশানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার
মানবশৃঙ্খলে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের একাংশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ করেন, তিনি বিজেপি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। তবে এটি বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার গত এক বছরে ১৪টি আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন প্রতিবাদকারীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সেই আপত্তিগুলিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
দেশজুড়ে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক
বিক্ষোভকারীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩.৪ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তাঁরা SIR প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা, তার কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি তথ্য ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
হায়দ্রাবাদের এই প্রতিবাদ ভোটার তালিকা সংশোধন, ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে চলা বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনও যোগ্য ভোটার যাতে তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।




