হাওড়া, রেশমি ব্যানার্জি: চারিদিকে ছবি দিয়ে ঘেরা একটি প্রতিষ্ঠান। যেখানে ছোট ছোট ক্ষুদেদের শারীরিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। সারা বছর ছবিটা সমান্তরালে চললেও বর্ষা এলেই বদলে যায় চেনা ছবি। বর্ষার নামলেই এই প্রতিষ্ঠানই যেন পরিবর্তন হয়ে যায় ছোট্ট একটি দ্বীপে। চারিদিক জলবেষ্টিত হয়ে যায়, যাওয়া-আসার উপায় থাকে না এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। স্বাভাবিকভাবে বর্ষার সময় বেশিরভাগ দিন বন্ধ থাকে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি। সম্প্রতি এই কেন্দ্রের চারপাশ জল থৈথৈ অবস্থা।
এমন এক করুণ ছবি সামনে এসেছে হাওড়া জেলার শ্যামপুর বিধানসভার অন্তর্গত নাকোল গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইবেনিয়া খাঁ পাড়া এলাকার আইসিডিএস কেন্দ্রের। স্বাভাবিকভাবে বর্ষার সময় ছোট ছোট বাচ্চা, প্রসূতি মায়েদের কথা মাথায় রেখে বন্ধ করে দেওয়া হয় এই কেন্দ্রটি। কারণ বর্ষার দিনে এই এলাকা বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে এমন অচলাবস্থার সাক্ষী থাকতে হয় তাদের। ফি বছর বন্যা এলে এই কেন্দ্রে চারপাশ সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়। যাতায়াতে রাস্তা থাকেনা, কাদা জল পেরিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছানো বিপদজনক হয়ে পড়ে। স্কুলটিতে পাকার ছাদ দেওয়া হলেও কিংবা চারিদিক নানান ছবিতে রংচং এ করে তুললেও যাতায়াতের নেই কোনও রাস্তা।
জানা গিয়েছে সাইবেনিয়া সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রায় ৭০ জন শিশু এই কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। প্রতিবছরে এই বর্ষাকালে বেশ কয়েক মাস কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনা কেউই। শুধু এখানেই থেমে নেই গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ ঝাঁ চকচকে ভবন তৈরি হলেও আলো পাখার ব্যবস্থা করা হলেও নেই বিদ্যুৎ। কেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগকারী মাটির রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে পাকার দাবি করা হলেও সুরাহা মেলেনি। স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত রাস্তা মেরামতির কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি।
তবে সরকার পট পরিবর্তনের পর নতুন করে আশার আলো দেখছে সাধারণ মানুষ। তৎকালীন রাজ্য সরকারের সময়ে পথশ্রী প্রকল্পে আবেদন জানানো হলেও বাস্তব রূপ পায়নি। তবে এবার বর্তমান সরকারের সময়ে এই সমস্যা মেটে কিনা সে দিকে তাকিয়ে এলাকার মানুষজন।