স্পোর্টস ডেস্ক: অনূর্ধ্ব-১৫ আন্তর্জাতিক ফুটবলে একদিকে জয়ের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে অবিশ্বাস্যভাবে পয়েন্ট হারানোর হতাশা। আজারবাইজানে চলা প্রতিযোগিতায় ভারতের তরুণ ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে দেখা গেল দুই বিপরীত ছবি। লাওসের বিরুদ্ধে ৪-২ গোলে জয়ের পর ক্যামেরুনকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল ভারত। কিন্তু গ্রেনাডার বিরুদ্ধে তিন গোলে এগিয়ে থেকেও জয় অধরা রইল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ড্র করায় ভারতীয় শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা তৈরি হয়েছে।
ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল ভারত। ম্যাচের প্রথম মিনিটে ফারেইল এনগোবোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ব্লু কোল্টসরা। ২০ মিনিটে মহম্মদ সোহিল খানের আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরায় ক্যামেরুন। এরপর লড়াই জমে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে ২৭ মিনিটে আর লালরেমরুয়াতফেলার গোলে ফের এগিয়ে যায় ভারত। শেষ দিকে ক্যামেরুন পেনাল্টি পেলেও ভারতের গোলরক্ষক জেনিত নিংথৌজাম দুরন্ত সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে জয়ের পর গ্রেনাডার বিপক্ষেও ভারতকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। শুরুতেই আক্রমণে গতি এনে তিন গোলের ব্যবধান তৈরি করে দল। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, আরও একটি সহজ জয় পেতে চলেছে ভারত। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় তরুণ ফুটবলাররা। রক্ষণে ফাঁক তৈরি হওয়া এবং প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়ার ফলে গ্রেনাডা ধীরে ধীরে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া করে ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ভারতকে।
এই ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল এগিয়ে যাওয়ার পর খেলার ছন্দ ধরে রাখতে না পারা। তিন গোলের ব্যবধানও যে জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না, তা স্পষ্ট হয়ে গেল এই ফলাফলে। কোচিং দল ও ম্যানেজমেন্টকে রক্ষণ সংগঠন, খেলোয়াড় পরিবর্তনের কৌশল এবং ম্যাচের শেষ পর্যায়ে মনোযোগ বজায় রাখার দিকে নজর দিতে হবে। প্রতিভার পরিচয় দিলেও সেই প্রতিভাকে ধারাবাহিক সাফল্যে রূপান্তর করাই এখন ভারতের সামনে বড় পরীক্ষা।




