নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর অবশেষে কি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তির জট কাটতে চলেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। যদিও চুক্তির শর্তাবলি কিংবা কবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে আগ্রহী। আমেরিকাও এই চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি আমেরিকার আগে করা বাণিজ্যচুক্তিগুলির তুলনায় আলাদা হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্যিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ, এখনও পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ্যে আসেনি।
কোন বিষয়ে আটকে ছিল চুক্তি?
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বেশ কয়েক দফায় আলোচনা হলেও একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৃষিপণ্য। আমেরিকা ভারতীয় বাজারে নিজেদের কৃষিজ পণ্যের আরও বেশি প্রবেশাধিকার চায়। অন্যদিকে, এই সুযোগ বাড়লে ভারতীয় কৃষকদের উপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
ভারতের কৃষি বাজারে বিদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার, শুল্কনীতি এবং দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষা—এই বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথ সহজ হয়নি।
আলোচনায় নতুন গতি?
বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। এর আগে তিনিও বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হলে দুই দেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং পণ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে শুল্ক, কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কী ধরনের সমঝোতা হয় তার উপর।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য মিটিয়ে ঠিক কোন শর্তে ঐকমত্যে পৌঁছবে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন। ট্রাম্প চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত বলে দাবি করলেও, বিস্তারিত শর্ত এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।





