খেলার মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই এক আলাদা উত্তেজনা। কিন্তু সেই লড়াইয়ের পরেই কখনও কখনও তৈরি হয়ে যায় এমন কিছু মুহূর্ত, যা বহু বছর পরেও হাসির খোরাক হয়ে থাকে। তেমনই এক ঘটনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভাগ করে নিলেন কমনওয়েলথ গেমসে রুপোজয়ী ভারতীয় বক্সার নরেন্দর বারওয়াল। ২০১৫ সালের বিশ্ব সামরিক গেমসে পাকিস্তানের এক বক্সারকে হারানোর পর তাঁদের কথোপকথনের সেই কাহিনি শুনে সঙ্গে সঙ্গে হেসে লুটোপুটি খেলেন মোদি।
বারওয়াল জানান, ২০১৫ সালে বিশ্ব সামরিক গেমসে প্রথম লড়াইতেই তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন পাকিস্তানের এক বক্সার। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে তখন উত্তেজনা চলছিল। ফলে সেনার তরফে তাঁকে ফোন করে বিশেষ ভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। বারওয়ালের কথায়, তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘‘পাকিস্তানের কাছে কোনও ভাবেই হেরে যাওয়া চলবে না।’’ সেই লড়াইয়ে প্রথম রাউন্ডে ৪-১ এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে নেন ভারতীয় বক্সার।
তবে লড়াইয়ের পর ছবিটা বদলে যায়। দু’জনেরই মুখে চোট লাগে। ফেটে যায় চামড়া। ফলে ম্যাচের পর একসঙ্গেই হাসপাতালে যেতে হয় তাঁদের সেলাই করাতে। সেখানেই কথায় কথায় পাকিস্তানি বক্সার জানতে পারেন, বারওয়ালের নাম নরেন্দর। তাঁর কোচের নামও নরেন্দর রানা। এর পরেই মজার ছলে তিনি বলেন, ‘‘তোমার নাম নরেন্দর। তোমার কোচের নাম নরেন্দর, আবার তোমাদের প্রধানমন্ত্রীর নামও নরেন্দ্র। নরেন্দ্র নামটাতেই আমার ঘৃণা জন্মে গিয়েছে!’’ সেই কথা শুনিয়েই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মোদিকে হাসিয়ে ফেলেন বারওয়াল।
কমনওয়েলথ গেমস থেকে ফেরা ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁদের সঙ্গে একান্তে কথাও বলেন মোদি। দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। বারওয়ালের এই পুরনো স্মৃতিচারণে যেমন উঠে এল ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের চাপ, তেমনই তার ফাঁকে তৈরি হওয়া এক মজার মানবিক মুহূর্তও। রাজনৈতিক টানাপড়েনের বাইরে খেলাধুলোর মঞ্চে এমন ঘটনাই যে স্মরণীয় হয়ে থাকে, আরও এক বার মনে করিয়ে দিলেন ভারতীয় বক্সার।