স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান প্যারা গেমসের আসরে বড়সড় বিতর্কে জড়াল ভারতীয় দল। যৌন অসদাচরণের অভিযোগে জাপান থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হল ভারতীয় প্যারা সাঁতারু মহম্মদ শামস আলম শেখকে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে ভারতের প্যারালিম্পিক্স কমিটি। এমনকী, সব দিক খতিয়ে দেখে তাঁকে আজীবন নির্বাসিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। দেশে ফেরার পর আনুষ্ঠানিক শুনানির মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য শোনার কথা জানিয়েছে কমিটি।
জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় দলের সদস্যদের থাকার হোটেলেই এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, হোটেলের এক মহিলা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, যিনি নেপালি বংশোদ্ভূত, শামসের বিরুদ্ধে অনুচিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ আনেন। ওই মহিলার অভিযোগ, তাঁকে যৌন হেনস্থার চেষ্টা করা হয়েছিল। কোনওক্রমে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি হোটেলের ম্যানেজারকে বিষয়টি জানান। এরপরই স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ শামসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ভারতীয় দলের আধিকারিকেরাও ঘটনার বিষয়ে অবগত হন। পরে তাঁকে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফলে এশিয়ান প্যারা গেমসে তাঁর আর অংশ নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতীয় দলের প্রতিনিধিরা ক্ষমাও চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
শামস একসময় পুরুষদের ১০০ মিটার বাটারফ্লাই এবং ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক বিভাগে বিশ্ব ক্রমতালিকায় এক নম্বরে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভারতীয় ক্রীড়ামহলে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, নাগোয়ায় ভারতীয় প্রতিনিধিদলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে ভারতীয় হকি ফেডারেশনের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ভারতের প্যারালিম্পিক্স কমিটি জানিয়েছে, যৌন অসদাচরণ বা অন্যের মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনও আচরণের ক্ষেত্রে তাদের নীতি কঠোর। প্রতিযোগিতার আগে খেলোয়াড় ও দলের সদস্যদের আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশিক্ষণমূলক আলোচনারও আয়োজন করা হয়েছিল।
কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় দলের প্রধানের তরফে অভিযুক্ত খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ আজীবন নির্বাসনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিয়ম মেনে তাঁর বক্তব্য শোনা হবে। এ বিষয়ে ভারত সরকারকেও অবহিত করা হয়েছে।
জাপানের হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রতিযোগিতার আয়োজকেরাও ভারতের তরফে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন বলে খবর। শাস্তির ধরন বিবেচনা করেই তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবেন। তদন্ত ও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই এই ঘটনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।





