নিউজ ডেস্ক: পুজো প্যান্ডেলে এন্ট্রি পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। এবার হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। গ্রেফতারির আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু দীর্ঘ শুনানির পর তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেনি আদালত।
এই মামলার সূত্রপাত বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের নামে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে চড়া দামে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। পরবর্তীতে মামলার তদন্তে নামে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিভিন্ন নথিপত্রও খতিয়ে দেখেছেন তদন্তকারীরা।
ইডির তদন্তে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে চড়া দামে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত অর্থের লেনদেন নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনকে নিয়ে আইনি জটিল তৈরি হয়েছে। তবে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়া মানেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। মামলার তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, চন্দননগর উৎসব সংক্রান্ত পৃথক একটি মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ওই মামলায় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মেলেনি বলে আদালতে শুনানির সময় উঠে আসে। রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, চন্দননগর উৎসব সংক্রান্ত মামলায় ধ্রুবজ্যোতি বসু মূল অভিযুক্ত। ফলে দুটি পৃথক মামলায় আদালতের সিদ্ধান্তও আলাদা হয়েছে।




