নিউজ ডেস্ক: বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ কেবল নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই আটকে থাকে না, তার আঁচ পড়ে গোটা দুনিয়ায়। রবিবার রাষ্ট্রসংঘ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত ‘চিন্ময় অমৃত মহোৎসব বিশ্ব সম্মেলন’-এর মঞ্চ থেকে এই ভাষাতেই বিশ্বপরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের যুদ্ধই প্রকৃতপক্ষে সমগ্র দুনিয়ার সার্বিক শান্তির পক্ষে চরম বিপদ।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল, ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, আজকের আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে সংঘাত যেখানেই ঘটুক, তার খেসারত দিতে হচ্ছে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা সাধারণ মানুষকে। অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, বিপন্ন হচ্ছে জনজীবন অথচ সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ওই সাধারণ মানুষগুলোর কোনও ভূমিকাই ছিল না।
জয়শঙ্করের কথায়, জটিল আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং অভিন্ন সম্পদের যুগে এক অংশ উন্নতি করবে আর অন্য অংশ বঞ্চনায় ডুবে থাকবে, তা চলতে পারে না। এমন বৈষম্য আখেরে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতারই কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার উপর আবারও পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, রক্তক্ষয়ী লড়াই বা সামরিক আগ্রাসন কোনও সমাধান দিতে পারে না,একমাত্র গঠনমূলক সংলাপ এবং কূটনীতিই পারে সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে। এই সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিছক অসহায় দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভারত এই অচলাবস্থা কাটাতে নিজের মতো করে আন্তরিক প্রয়াস চালাচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ফেরাতে যে কোনও সমমনোভাবাপন্ন দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত।
ভাষণে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নিয়েও তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন বিদেশমন্ত্রী। কড়া ভাষায় তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর সপক্ষে কোনও যুক্তি বা সাফাই খাটবে না। তাঁর আক্ষেপ, ইতিহাসের বহু শিক্ষা সত্ত্বেও এখনও কিছু দেশ রাজনৈতিক স্বার্থ ও হিসাব-নিকাশকে বেশি গুরুত্ব দেয়। সব দেশ একযোগে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি না নেওয়া পর্যন্ত এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা সম্ভব নয় বলেই তিনি জোরালো সওয়াল করেন। সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতি এবং বিশ্বজুড়ে স্থায়ী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যেই এদিন সুর চড়ান বিদেশমন্ত্রী।




