ক্রমেই তীব্র হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় ‘অনিয়ম’-এর অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়াদের আন্দোলন। রাঁচিতে গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে এ বার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের পদত্যাগের দাবি উঠল। JPSC-JSSC Reforms Manch-এর নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস জোট সরকার। সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে বলে দাবি তাঁদের। এক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে আগামী ১৬ অগাস্ট ঝাড়খণ্ডের ২৪টি জেলার সদর দফতরে হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কুশপুতুল পোড়ানোর কর্মসূচি নিয়েছেন পড়ুয়া নেতারা।
আন্দোলনকারীদের নিশানায় কংগ্রেসও। তাঁদের অভিযোগ, কংগ্রেস নেতারা আন্দোলনের পাশে থাকার মৌখিক আশ্বাস দিলেও সমস্যা সমাধানে এখনও পর্যন্ত কার্যকর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেননি। তাই মুখ্যমন্ত্রী যদি তাঁদের দাবি না মানেন, তা হলে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে কংগ্রেসকে সমর্থন প্রত্যাহারের দাবিও উঠেছে। নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতেই আন্দোলন বলে জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে JSSC CGL এবং ১১তম থেকে ১৩তম JPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল, গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্ত অথবা রাজ্যের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিয়োগকারী সংস্থাগুলির আমূল সংস্কার।
গত ১০ অগাস্ট বিধানসভা অভিযানে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া যোগ দিয়েছিলেন। সেই বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। তার পরেই আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয় ছাত্র সংগঠনগুলি। আগামী ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ঘেরাওয়েরও ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষা বাতিল এবং স্বাধীন তদন্তের মতো মৌলিক দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন থেকে সরবেন না।
যদিও রাজ্য সরকারের দাবি, পড়ুয়াদের ৯৮ শতাংশ দাবি ইতিমধ্যেই মেনে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম গোটা দেশেরই বড় সমস্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ঘটনায় প্রশাসনিক কর্তাদের পদত্যাগ এবং গ্রেফতারও হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। তবে তাতে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের পদক্ষেপ ‘লোকদেখানো’। পরীক্ষা বাতিল, স্বাধীন সিবিআই তদন্ত এবং রাজনৈতিক দায় স্বীকার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, সাফ জানিয়েছেন তাঁরা