নিউজ ডেস্ক: সুন্দরবনের প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী দিনে কাকদ্বীপ নতুন জেলা হবে, শনিবার কাকদ্বীপে সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগলেও আগামী দু’বছরের মধ্যে কাকদ্বীপকে জেলা করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
কাকদ্বীপ মহকুমার অন্তর্গত কাকদ্বীপ, সাগর, নামখানা ও পাথরপ্রতিমা ব্লক। নতুন জেলা গঠিত হলে এই এলাকার প্রশাসনিক কাজকর্ম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপের মধ্যে যোগাযোগ এবং উন্নয়নের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি বিশেষ মডেল তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘এই জেলাকে বদলে দেব। সুন্দরবনকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ২ বছর সময় লাগলেও কাকদ্বীপকে আলাদা জেলা করা হবে।’
সুন্দরবনের পরিকাঠামো উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁর দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পূর্ববর্তী সরকার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও, খরচ হয়েছিল ২০০ কোটির। সেই খরচের একটি বড় অংশ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার আট মাসের বাজেটে এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। প্রথম পর্যায়ে ৫৫৩টি কাজের টেন্ডার হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ২৬৫০টি কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সুন্দরবনের নদীবাঁধ মেরামতির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিনের সভা থেকে মুড়িগঙ্গা সেতু নিয়েও সময়সীমা বেঁধে দেন শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, ২০২৯ সালের মধ্যে সেতুটির উদ্বোধন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই সেতু তৈরি হলে সাগরদ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ১০ জানুয়ারি গঙ্গাসাগর মেলার উদ্বোধন করতে ফের শুভেন্দু অধিকারী কাকদ্বীপে আসবেন। পাশাপাশি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র আওতায় শংসাপত্র প্রদান নিয়েও প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে প্রাণ ও ধর্ম রক্ষার জন্য ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক এবং কাকদ্বীপের মহকুমাশাসককে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।




