নিউজ ডেস্ক: তদন্তের জট খুলতে কখনও কখনও ছোট্ট একটি তথ্যও বড় ভূমিকা পালন করে। বাইরে থেকে সাধারণ মনে হওয়া কোনও নথি বা ডিজিটাল যন্ত্রের ভিতরে লুকিয়ে থাকতে পারে এমন কিছু সূত্র, যা তদন্তের গতিপথ বদলে দিতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এবার নজর তদন্তকারীদের। উদ্ধার হওয়া সামগ্রি খতিয়ে দেখে নেপথ্যে থাকা যোগাযোগ ও সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
কর্ণাটকের কালবুর্গি থেকে লস্কর ই তৈবা-র সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সন্ধেহে গ্রেফতার করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী মমতাজ-উল-মালিককে। প্রায় দেড় বছর ধরে কালবুর্গির একটি সোনার কারখানায় কাজ করেছিলেন তিনি। গ্রেফতারের পর তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। মমতাজের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস বর্তমানে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। ওই সমস্ত যন্ত্রে সংরক্ষিত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে মমতাজের সঙ্গে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, সম্ভাব্য ভারত বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, মমতাজের মোবাইল ফোনে একাধিক উর্দু ভাষার whatsapp গ্রুপের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, তাঁর ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। অভিযোগ, যেখানে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান এবং কাশ্মীর সংক্রান্ত আপত্তিকর বিষয়বস্তু ও ভিডিওতে তাঁর লাইক দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এই ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে মমতাজের সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনও বৃহত্তর ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাঁর যোগসুত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তদন্তের ফলাফল ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
এই ঘটনায় কর্ণাটক পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার BSN ১১৩(৩) এবং ১৯৭(১) ধারায় মামলা রুজু করেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভিন রাজ্য থেকে আসা কর্মীদের পরিচয় পত্র ও অতীতের নথি যাচাইয়ের উপর জোর দিয়েছে কর্ণাটক সরকার। এখন তদন্তকারীদের লক্ষ্য উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সন্দেহভাজনদের মধ্যে যোগাযোগের প্রকৃতি নির্ধারণ করা। তদন্তে নতুন কি তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।





