কানপুর, নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বৃহস্পতিবার প্রশিক্ষণ বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল দুই পাইলটের। ঘটনাটি ঘটেছে গঙ্গা ব্যারেজের কাছে নত্থুপুরওয়া গ্রামের একটি ফাঁকা মাঠে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল চার আসনের একটি প্রশিক্ষণ বিমান। বিমানে ছিলেন একজন প্রশিক্ষক পাইলট এবং একজন প্রশিক্ষণরত পাইলট। দুর্ঘটনায় দু’জনেরই মৃত্যু হয়েছে। বিমানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল VT-NBV।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আকাশে ওড়ার পর কোনওভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, আবহাওয়া বা অন্য কোনও কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সেখানে জড়ো হন। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং বিমানটির ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। দুর্ঘটনার অভিঘাতে বিমানটি কার্যত সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
বিমান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। বিমানের প্রযুক্তিগত অবস্থা, শেষবারের মতো সেটির পরীক্ষা কবে হয়েছিল, উড়ানের সময় কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং পাইলটদের সঙ্গে বিমানবন্দরের যোগাযোগে কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল কি না, সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে।
উল্লেখ্য, কানপুরেই এর আগে একটি প্রশিক্ষণ বিমানকে ঘিরে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জুন মাসে রাতের প্রশিক্ষণ উড়ান শেষে বিমান থেকে নামার সময় প্রপেলারের আঘাতে এক প্রশিক্ষণার্থী পাইলট আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরেও বিমান প্রশিক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এবারের দুর্ঘটনায় দুই পাইলটের মৃত্যু হওয়ায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রশিক্ষণ উড়ানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মৃত পাইলটদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে এখন তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে প্রশাসন।