সংসদে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ তিনি জানান যে, 'বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংসদ ১২টি বিল পাস করেছে, সেই বিলগুলির আলোচনার মান নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট হয়নি।' তিনি আরও অভিযোগ করে বলেছেন, 'বিরোধী দলগুলো সংসদে বিতর্ক এড়িয়ে পালিয়ে চলেছে।'
এদিকে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ ও হট্টগোলের মধ্যেই আজ লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হয়ে যায়। একই সাথে বর্ষাকালীন অধিবেশনেরও সমাপ্তি ঘটেছে। এই বাক্য গুলির মাধ্যমে তিনি বিরোধীদলকে জোরালো কটাক্ষ করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে রিজিজু বলেন, 'মোট ১২টি বিল পাস হয়েছে, কিন্তু আলোচনার মান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। কারণ বিরোধী দলগুলো যথাযথ বিতর্ক হতে দেয়নি, বিশেষত লোকসভায়। এই প্রথম আমি দেখলাম যে বিরোধী দল আলোচনা থেকে সরে আসছে।বিরোধীরা সরকারের কাছে জবাব চায় এবং সরকার তা দিতে বাধ্য। অথচ সংসদের ভেতরে আমরা এমন পরিস্থিতি দেখেছি যেখানে সরকার নিজেই আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছিল, আর বিরোধীরা তা এড়ানোর জন্য অজুহাত খুঁজছিল। সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এটি স্বাস্থ্যকর নয়।
তারা ঘোষণা করেছিল যে তারা না আলোচনা শুনবে, আর না মন্ত্রীর জবাব শুনবে।'কিরেন রিজিজু আরও বলেছেন 'লোকসভায় ১১টি বিল কোনো আলোচনা ছাড়াই পাস হয়েছে, আর একটির ওপর আলোচনা হয়েছে। রাজ্যসভায় বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শুধুমাত্র প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং আরও কয়েকটি দল কক্ষত্যাগ করেছিল, তবে অন্যান্য বিরোধী দল আলোচনায় অংশ নিয়েছিল।'
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে কিরেন রিজিজু এই কথার মাধ্যমে কংগ্রেস নেতৃত্বকে ভৎর্সনা করেছেন। রিজিজু কংগ্রেস সাংসদদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা সংসদে নিজেদের ভূমিকা কেবল স্লোগান দেওয়া এবং হট্টগোল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। এছাড়াও কংগ্রেস নেতৃত্ব অর্থবহ বিতর্ক ও আলোচনায় অংশ নেয় না।
এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, 'আমি আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, কংগ্রেস সাংসদরা সম্ভবত মনে করেন তাদের প্রধান কাজ হলো কেবল স্লোগান দেওয়া এবং প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে হট্টগোল করা। তারা এমনই মানসিকতা গ্রহণ করেছে। তারা সকালে ঘুম থেকে ওঠে, বালিশ নিয়ে সংসদ চত্বরে চলে আসে এবং স্লোগান ও কটু কথা বলতে থাকে। তাদের কাজ এখন কেবল এটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, তারা এমনই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।'
তাঁর আশা, বিরোধী দলগুলি বর্ষাকালীন অধিবেশনে তাদের আচরণ নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে এবং শীতকালীন অধিবেশনে সংসদ পুনরায় বসার সময় অর্থবহ বিতর্ক ও আলোচনাতে অংশ নেবে।