কলকাতা: ফোন নয়, ইমেলও নয়! কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহিলা ওয়াশরুমে টিস্যু পেপারের উপর বাংলা হরফে লেখা হুমকি ঘিরে শুক্রবার সকালে ছড়াল তীব্র আতঙ্ক। ওই বার্তায় দাবি করা হয়, বিমানবন্দরের ২৩ নম্বর গেটে বোমা রাখা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ)-কে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়েই তৎপর হয়ে ওঠেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তারক্ষীরা। খালি করে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট গেট এলাকা। শুরু হয় তল্লাশি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে শুক্রবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট নাগাদ। বিমানবন্দরের মহিলা ওয়াশরুম পরিষ্কার করার সময় সাফাইকর্মীদের নজরে আসে টিস্যু পেপারে লেখা ওই হুমকিবার্তা। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় সিআইএসএফকে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
হুমকির বার্তায় নির্দিষ্ট করে ২৩ নম্বর গেটের উল্লেখ থাকায় ওই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তল্লাশি শুরু করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। নামানো হয় বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড। গোটা এলাকা ঘিরে সম্ভাব্য বিপদের উৎস খুঁজতে শুরু করেন তাঁরা। তবে তল্লাশিতে বোমা পাওয়া গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি।
পুজোর ছুটি শেষ হওয়ার পর বহু মানুষ কর্মস্থলে ফেরার জন্য বিমানবন্দরে ভিড় করছেন। বিদেশ থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদেরও ফের যাত্রা শুরু করার সময়। এমন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই হুমকি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি মাসের ৮ তারিখেও কলকাতা বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সে বার হুমকিবার্তা এসেছিল ইমেলের মাধ্যমে। এ বার কোনও ডিজিটাল মাধ্যমে নয়, সরাসরি ওয়াশরুমের টিস্যু পেপারে লিখে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেও বিমানবন্দরকে ঘিরে একাধিক হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে।
বারবার এই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। হুমকির নেপথ্যে কারা রয়েছে, কী উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে আগের ঘটনাগুলির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে হুমকিবার্তা পাওয়া মানেই সেখানে সত্যিই বিস্ফোরক রয়েছে, এমন নয়। তদন্ত ও তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। আপাতত নিরাপত্তারক্ষীদের তল্লাশির দিকেই নজর রয়েছে।




