নিউজ ডেস্ক : উৎসবের আলোতে সেজে উঠেছিল কলকাতা। চারিদিকে ঢাকের বাদ্যি, প্রতিমা দর্শনের উন্মাদনা আর মানুষের ভিড়। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই এমন এক বিপর্যয় নেমে এল, যা মুহূর্তের মধ্যেই বদলে দিল শহরের ছবিটা। একদিকে প্রিয়জন হারানোর কান্না, অন্যদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কর্তব্য নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে এবার কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তদন্তের জন্য বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের ঘোষণা করেছেন তিনি।
দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো মন্ডপে পদপৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। দুর্ঘটনার পর মৃত ও আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ, এনআরএস এবং আরজিকর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্য সচিব এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনা মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, আহতদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচও বহন করবে রাজ্য সরকার। এমনকি, আহতরা যে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চাইবেন, সেখানেই চিকিৎসা ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
একইসঙ্গে, তদন্তের ক্ষেত্রেও কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফুটেজে যদি দেখা যায়, কলকাতার পুলিশ কমিশনার নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাহলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, পুজো কমিটির ৫ উদ্যোক্তাসহ মোট ১০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবে দুর্ঘটনার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। তাঁর বক্তব্য, পূজোর থিম বা জাঁকজমকের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার পর একাধিক সরকারি অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে, শোকের ঘটনা কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক না করার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বার্তা, এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটিকে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে। এখন, তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নিহতদের পরিবার এবং শহরবাসী। বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা স্পষ্ট হয়, সেটাই এখন দেখার।




