নিউজ ডেস্ক : পুজো মানেই আনন্দ উৎসব। কিন্তু একটি বিপর্যয় এ বছরের দুর্গাপুজোকে ফিকে করে তুলেছে। চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রাতের ঘুম উড়িয়েছে বহু মানুষের। আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। সজন হারানোর বেদনায় শোকোস্তব্ধ বহু পরিবার। এরই মাঝে উঠে এলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সপ্তমীর রাতে চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ চত্বরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যুর আসল কারণ খুঁজতে গিয়ে কেঁপে উঠছেন চিকিৎসকেরাও। নিহত ১৯ জনের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের যে রূপরেখা সামনে এসেছে, তা কেবল ভয়াবহ নয়, রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মানুষের বেপরোয়া চাপে অন্তত ছয় জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে সোজা ঢুকে গিয়েছিল ফুসফুসের ভেতর। প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও ফুসফুস অকেজো হয়েই সেই মানুষগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
রিপোর্ট বলছে, ভিড়ের সেই নারকীয় চাপে পিষ্ট হয়ে দম আটকে বা ‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’র কারণে মারা গিয়েছেন অন্তত সাত জন। নিশ্বাস নেওয়ার জন্য বুক ফুলিয়ে বাতাসটুকু টেনে নেওয়ার সামান্যতম ফাঁকা জায়গাও ছিল না সেখানে। বাকিদের শরীরে মিলেছে গুরুতর ভোঁতা আঘাতের চিহ্ন। কারও ভেঙেছে হাত, কারও পা। কয়েক জনের ক্ষেত্রে মাথার খুলি ফেটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উৎসবের আনন্দমুহূর্ত কীভাবে এক লহমায় মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছিল, দেহের এই ক্ষতচিহ্নগুলোই তার জীবন্ত প্রমাণ।
শনিবার রাতের ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই শোকস্তব্ধ গোটা শহর। মৃত ১৯ জনের তালিকায় রয়েছে সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশু। বাকিদের মধ্যে ১৩ জনই মহিলা। উৎসবের আলো দেখতে এসে এভাবেই চিরতরে নিভে গিয়েছে তাঁদের জীবন। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় কলকাতার বাসিন্দা যেমন রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন মফস্সল এবং ভিন রাজ্য থেকে ঠাকুর দেখতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীরাও।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ২৫ জন বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে এক জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বাকিদেরও অনেকের শরীরে গুরুতর আঘাত ও চিড় রয়েছে।
এই চরম অব্যবস্থার দায় কার, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে। মণ্ডপ ও তার আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ফুটেজ খতিয়ে দেখে ভিড় নিয়ন্ত্রণের গলদ এবং দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তদন্তে যাঁর বিরুদ্ধেই গাফিলতির প্রমাণ মিলবে, তাঁকে কোনও অবস্থাতেই রেয়াত করা হবে না।




