নিউজ ডেস্ক: চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর দুর্গাপুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্ক কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন। পুজোর দিনগুলিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুজো মণ্ডপের দায়িত্বে রাখা হয়েছে রাজ্য পুলিশের নয় জন আইপিএস আধিকারিককে। শুধু নির্দেশ দেওয়াই নয়, নিজেরাই রাস্তায় নেমে মণ্ডপ পরিদর্শন এবং পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালাচ্ছেন তাঁরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশের হাতে দেখা যাচ্ছে বিশেষ ধরনের ‘সোলার লাঠি’, যা এবার বাড়তি নজর কেড়েছে।
এই বিশেষ দায়িত্বে রয়েছেন আইজি ট্রাফিক মিরাজ খালিদ, ডিআইজি এসটিএফ রূপেশ কুমার, ডিআইজি ট্রাফিক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, এসপি ট্রাফিক প্রিয়ব্রত রায় এবং সিআইডির এসপি দীপক সরকার-সহ আরও কয়েক জন আইপিএস আধিকারিক। কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুজো মণ্ডপ এবং সংলগ্ন রাস্তায় ভিড় ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণী, সুরুচি সংঘ এবং আশপাশের পুজোগুলিতে নজরদারির দায়িত্বে রয়েছেন মিরাজ খালিদ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এসপি প্রিয়ব্রত রায়, ডিসি সাউথ আইপিএস রাহুল দে, ডিসি ওয়ারলেস শুভ্রেন্দু কুমার-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন মিরাজ খালিদ। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, রাস্তায় যান চলাচল এবং ভিড়ের চাপের দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে, যাতে কোনও জায়গায় অতিরিক্ত ভিড় জমে বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার ত্রিধারা ও দেশপ্রিয় পার্ক-সহ সংলগ্ন পুজোগুলিতে ভিড় এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর নজরদারি চালাচ্ছেন ডিআইজি এসটিএফ রূপেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম নগরপাল ভোলানাথ পাণ্ডে-সহ একাধিক আধিকারিক। একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংহী পার্ক এবং আশপাশের পুজোগুলির দায়িত্বে রয়েছেন ডিআইজি ট্রাফিক শুভঙ্কর ভট্টাচার্য। উত্তর কলকাতার জগৎ মুখার্জি পার্ক, কুমোরটুলি-সহ বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন সিআইডির এসপি দীপক সরকার।
ভিড় নিয়ন্ত্রণে শহরের একাধিক পুজোমণ্ডপে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ‘সোলার লাঠি’। দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং মণ্ডপের সামনে অযথা জমায়েত কমাতে সোলার লাঠি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শনার্থীরা যাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছবি তুলে মণ্ডপের ভিতরে ভিড় বাড়িয়ে না তোলেন, সে জন্য চেতলা অগ্রণীতে মাইকে কড়া সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে। চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পর পুজোর ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলিতে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করছেন আইপিএস আধিকারিকরা।





