নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর সময় সিপিএমের বইয়ের স্টল বসানো নিয়ে আইনি টানাপোড়েন অব্যাহত। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্যের আবেদনের ভিত্তিতে এবার সিপিএমের স্টল বসানোর অনুমতি খারিজ করল প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশ, যথাযথ অনুমতি ছাড়া রাস্তার ধারে কোনও স্টল রাখা যাবে না। সেই সঙ্গে টেবিল ও ছাতা ব্যবহার করেও বইয়ের স্টল বসানো যাবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে আদালত। আগামী ২১ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে অনুমতি সংক্রান্ত নথি নিয়ে সিপিএমের আইনজীবীর কাছে জানতে চান প্রধান বিচারপতি। দলের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, পূর্ত দফতর এবং হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেল করে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, মহকুমাশাসককেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়া যায়নি বলে আদালতে জানানো হয়।
সিপিএমের আইনজীবী আরও জানান, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বনগাঁয় দুর্গাপুজোর সময় বইয়ের স্টল বসানো হচ্ছে। এবছরও সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পুজোর আর কয়েক দিন বাকি থাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে টেবিল ও ছাতা ব্যবহার করে ছোট আকারে বই বিক্রির অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয়, অনুমতি ছাড়া স্টল বসানোর সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। রাস্তার ধারে অন্য স্টলগুলির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর করার কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য সওয়াল করেন। বনগাঁ থানার আইসিও শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সিপিএমের স্টল বসানোর অনুমতি না দিয়ে আগের নির্দেশ খারিজ করে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর সময় বইয়ের স্টল বসাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। দলের দাবি ছিল, বনগাঁয় দলীয় কার্যালয়ের সামনে স্টল তৈরির সময় বাধা দেওয়া হয় এবং কর্মীদের হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিঙ্গল বেঞ্চ স্টল বসানোর অনুমতি দিয়েছিল। এবার ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকল না।




