নিউজ ডেস্ক : উৎসবের আনন্দে যাতে কোনওভাবেই বিষাদের ছায়া নেমে না আসে, তার জন্য এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। মন্ডপে মন্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। সামান্য অসতর্কতাও যে বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে পূজোর দিনগুলিতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করেছে কলকাতা পুলিশ কমিশনার।
কলকাতার চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে দর্শনার্থীদের মৃত্যুর ঘটনার পর পুজোমণ্ডপ গুলিতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দর্শনার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশের তরফে ১১ দফা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ থেকে শুরু করে বৃষ্টির সময় কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে, সব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। পুলিশ কর্মীদের পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি পুজো মণ্ডপের বেরোনোর পথ সম্পূর্ণ বাধা মুক্ত রাখতে হবে। মণ্ডপের ভিতর ও বাইরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য যে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে। মণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও রাখতে হবে, যাতে অন্ধকারের কারনে কোনও সমস্যা না হয়।
বৃষ্টির সময় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা বার্তা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হলে মন্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে ভিতরে থাকা মানুষদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিকুল আবহাওয়া তৈরি হলে কোনও পুলিশ কর্মীকে ডিউটি ছেড়ে যাওয়া চলবে না। পাশাপাশি, প্রত্যেক পুলিশ কর্মীকে সঙ্গে রেইনকোট রাখতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও ভিআইপি গাড়ি যাতে পুজো মন্ডপের কাছাকাছি পৌঁছতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। মাইকে ঘোষনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার ওপর নিয়মিত নজর রাখতে হবে। প্রত্যেক পুলিশ কর্মীকে ৫ থেকে ৬ জন পুজোর স্বেচ্ছাসেবক এর দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত দড়ি, গার্ডরেল এবং লাউডহেলার বা ছোট স্পিকারের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পুজোর আনন্দ নির্বিগ্ন রাখতে প্রশাসনের এই নির্দেশ গুলি কতটা কার্যকর ভাবে পালন করা হয়, এখন সেদিকেই নজর। ভিড় সামলানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি থাকাও অত্যন্ত জরুরী। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, পুজো উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবকদের পারস্পারিক সহযোগিতা বড় ভূমিকা নিতে পারে।




