অপরাধ দমনের উপর কড়াকড়ির নির্দেশ। যে কোনো অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য নির্ভুল ভাবে সংরক্ষণ করতে ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি ডিভিশনে তৈরি হচ্ছে ডিভিশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো বা ডিসিআরবি। মঙ্গলবারই এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ কমিশনার।
বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ১০টি ডিভিশন রয়েছে। এই প্রতিটি ডিভিশনের ডিসির আওতায় কাজ করবে আট সদস্যের ডিসিআরবি। থাকবে একজন করে সাব-ইন্সপেক্টর। যিনি ওসি হিসাবেই কাজ করবেন। তার অধীনে থাকবে তিন জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর এবং চার জন কনস্টেবল। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এই সদস্য সংখ্যা আরো বাড়ানো হতে পারে।
এই নতুন শাখা তৈরি করা হচ্ছে রাজ্য পুলিশের এসসিআরবি এবং জাতীয় স্তরের এনসিআরবি-র ধাঁচে। এর অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো ইন্টারঅপারেবল ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম বা আইসিজেএস-এর আওতায় থাকা অপরাধ ও মামলার ডিজিটাল তথ্যের উপর নিয়মিত নজর রাখা।
এবার থেকে থানায় অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করার মধ্যেই সমস্ত কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। নিয়মিত সব আপডেট পাঠাতে হবে ডিসিআরবিকে। ডিসিআরবি সিসিটিএনএস, ই-সাক্ষ্য, ই-সমন, মেডলিপিআর, ই-ফরেনসিক এবং ন্যায় শ্রুতি-সহ একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের তথ্য খতিয়ে দেখবে প্রতিনিয়ত।
শুধু এখানেই শেষ নয় নিয়মিত ডিসিআরবি আধিকারিকরা প্রতিটি থানায় পরিদর্শন করবেন। থানা গুলি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করছে কিনা, সঠিক সময়ে সমস্ত তথ্য পাঠানো হচ্ছে কিনা সেই সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে। কোন সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা পুলিশের ক্রাইম রেকর্ড সেকশনকে জানাবে ডিসিআরবি। এরই সঙ্গে আদালত, সরকারি আইনজীবী, ফরেনসিক ল্যাবরেটরি, হাসপাতাল, জেল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ রাখার দায়িত্বও থাকবে তাদের।
লালবাজার সূত্রের খবর, আইসিজেএস-ভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে তদন্তকারী আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। যে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা তৈরি হলে থানার কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও করবেন তারা।
প্রতিনিয়ত কাজের খতিয়ান তুলে ধরা হবে। রিপোর্ট ডিভিশনের ডিসিকে জানাবেন ডিসিআরবির ওসি। এই রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সমস্ত ডিভিশনের ডিসিআরবির কাজের জন্য একজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিককে নোডাল অফিসার করা হবে।
এর মধ্যে দিয়ে বোঝা যাচ্ছে অপরাধ দমনে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। কারণ অপরাধের তথ্য শুধু খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। ডিজিটালই প্রতিটি বিষয়ের উপর নজরদারি চালানো হবে।